তদন্ত চলবে, তবে ২৬ মে পর্যন্ত বহাল রক্ষাকবচ! জাহাঙ্গিরের আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আর্জি খারিজ করল হাইকোর্ট

তদন্ত চলবে, তবে ২৬ মে পর্যন্ত বহাল রক্ষাকবচ! জাহাঙ্গিরের আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহারের আর্জি খারিজ করল হাইকোর্ট

ছাব্বিশের মসনদ বদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকার একদা দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বিদায়ী বিধানসভা প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানের আইনি রক্ষাকবচ প্রত্যাহার নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আইনি লড়াই শুরু হলো। ভোটযুদ্ধ থেকে আকস্মিক পলায়নের পর গ্রেফতারি এড়াতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন জাহাঙ্গীর। এবার তাঁর সেই আইনি রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়ে সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারে পৌঁছেছিল নতুন রাজ্য সরকার। তবে বুধবার সেই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি শেষে রাজ্যকে কিছুটা হতাশ করে তৃণমূল নেতার রক্ষাকবচের মেয়াদ আগামী ২৬ শে মে পর্যন্ত বজায় রাখার নির্দেশ দিল আদালত।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বুধবার এই আর্জি নিয়ে দীর্ঘ সওয়াল-জবাব চলে। রাজ্য সরকারের আইনজীবীদের যুক্তি খতিয়ে দেখার পর, আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে আপাতত আগামী ২৬ শে মে পর্যন্ত জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করা যাবে না। তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর আদালত সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং মামলার কেস ডায়েরি নতুন করে পর্যালোচনা (Review) করবে।

তদন্তে বাধা নেই, কড়া নির্দেশ বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের

কলকাতা হাইকোর্ট তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতারি থেকে সাময়িক স্বস্তি দিলেও, নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের পুলিশ ও তদন্তকারী আধিকারিকদের হাত কিন্তু পুরোপুরি বেঁধে দেয়নি। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর নির্দেশে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে জানিয়েছেন:

  • তদন্ত জারি থাকবে: জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে যে সমস্ত মামলা রুজু হয়েছে, পুলিশ তার স্বাভাবিক তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবে।
  • সহযোগিতা বাধ্যতামূলক: আইনি রক্ষাকবচ থাকার অর্থ এই নয় যে তদন্তে এড়ানো যাবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ডাকলে সংশ্লিষ্ট নেতাকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে।

সবটাই ‘মিথ্যা এফআইআর’, দাবি ফলতার বিদায়ী প্রার্থীর

এর আগে গত সোমবার খোদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে নিজের জীবনের নিরাপত্তা এবং গ্রেফতারি এড়াতে আগাম প্রোটেকশন চেয়েছিলেন ফলতার এই বাহুবলী নেতা। জাহাঙ্গিরের আইনজীবীদের দাবি ছিল, রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং তাঁকে কোণঠাসা করতেই একের পর এক সুপরিকল্পিত ও সম্পূর্ণ মিথ্যা এফআইআর (FIR) দায়ের করছে পুলিশ।

রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে দেবরাজ চক্রবর্তীর সিবিআই হেফাজত, অন্যদিকে সল্টলেক ও কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তিতে পুরসভার বুলডোজার নোটিশের জেরে যখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব চরম কোণঠাসা, ঠিক তখনই ফলতার জাহাঙ্গির খানের এই আইনি লড়াই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্য সরকার কেন এত তড়িঘড়ি তাঁর রক্ষাকবচ তুলতে মরিয়া এবং আগামী ২৬ শে মে আদালত পর্যালোচনার পর এই বাহুবলীর ভাগ্য কোন দিকে ঘোরে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *