তৃণমূলের অন্দরে চরম অস্বস্তি, অভিষেকের নোটিস-কাণ্ডে দায় এড়ালেন ফিরহাদ ও কুণাল!

আরজি কর কাণ্ড এবং জেলায় জেলায় দলের প্রথম সারির নেতাদের ধরপাকড়ের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এক অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ দলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মায়ের নাম থাকা এবং ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার মোট ১৭টি ঠিকানায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নোটিস পাঠিয়েছে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র অস্বস্তি ও চোরাস্রোত এখন পুরোপুরি প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে।
পুরসভার স্বায়ত্তশাসন বনাম মেয়রের দূরত্ব
তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের এই স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্পষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার কৌশল নিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে তিনি কার্যত হাত ধুয়ে ফেলার ভঙ্গিতে জানান, পুরসভার প্রশাসনিক রোজনামচা বা কাকে আইনি নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তার সঙ্গে মেয়রের সরাসরি কোনও সম্পর্ক থাকে না। কেএমসি আইনের কোন ধারায় নোটিস যাচ্ছে, তা তাঁর এক্তিয়ারের বাইরে। সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গে তাঁর চাঁছাছোলা মন্তব্য, ব্যক্তিগত ব্যাপারে তিনি কোনও কথা বলতে পারবেন না এবং এই বিষয়ে একমাত্র অভিষেকই ভাল বলতে পারবেন।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব ও বল ঠেলার কৌশল
অন্যদিকে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার তত্ত্ব খাড়া করেছেন দলের বর্ষীয়ান মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তৃণমূল নেতাদের ওপর মানসিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষ। তবে রাজনৈতিকভাবে দলের পাশে দাঁড়ালেও সম্পত্তির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে কুণাল ঘোষও কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। কলকাতায় অভিষেকের ঠিক কটি সম্পত্তি রয়েছে বা নোটিসের ভেতরের খুঁটিনাটি কী, তা একমাত্র অভিষেক বা তাঁর আইনজীবীই ভাল বলতে পারবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
কারণ ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাইরে থেকে এই নোটিসকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে আক্রমণ করা হলেও, দলের প্রধান দুই নেতার এমন মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ফিরহাদ ও কুণাল দুজনেই প্রকারান্তরে এই আইনি লড়াইয়ের দায় খোদ অভিষেকের কোর্টেই ঠেলে দিয়েছেন। একদিকে আরজি কর কাণ্ডের জের, অন্যদিকে দলের অন্দরেই শীর্ষ নেতৃত্বের এমন দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা আগামী দিনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ ও সমন্বয়কে আরও বড় ধরনের সংকটের মুখে ফেলতে পারে।