বিদেশ সফর সেরেই জরুরি তলব, দিল্লিতে মোদীর মেগা বৈঠকে মন্ত্রিসভায় বড় রদবদলের হাওয়া

বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেই পুরোদমে অ্যাকশনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে আজ, বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার একটি জরুরি ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন তিনি। রাজধানী দিল্লির ‘সেবা তীর্থ’-এ বিকেল ঠিক চারটের সময় এই বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে কেন্দ্রীয় ক্যাবিনেট মন্ত্রী, স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সমস্ত রাজ্যের মন্ত্রীদের অতি অবশ্যই উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আচমকা জরুরি তলব ঘিরে সাউথ ব্লক ও নর্থ ব্লকের অলিন্দে এখন তুমুল শোরগোল শুরু হয়েছে।
নজরে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ও ভারতীয় অর্থনীতি
সূত্রের খবর, এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সংকট অর্থাৎ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভারতের অর্থনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টি এই বৈঠকে অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাত যেভাবে ক্রমশ বাড়ছে, তাতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড়সড় ওলটপালটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহের চেইন সচল রাখা এবং এর ফলে দেশে যাতে মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে— সেই বিষয়গুলি নিয়েই আজ মন্ত্রীদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এই দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং ভারতের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে ইতিমধ্যেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অনানুষ্ঠানিক মন্ত্রী গোষ্ঠী গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ টিমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী রয়েছেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দেশের জ্বালানি ও এলপিজি সরবরাহে কী কী বিকল্প পদক্ষেপ করা হতে পারে, তা নিয়েই আজকের বৈঠকে মূল আলোচনা এগোবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্ষপূর্তির আগেই কি ক্যাবিনেটে রদবদল
পশ্চিম এশিয়ার সংকটের পাশাপাশি এই বৈঠকের একটি বড় রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। আগামী ১০ জুন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ‘মোদী ৩.০’ সরকার তার প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন করতে চলেছে। আর এই প্রথম বর্ষপূর্তির ঠিক আগেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ এবং রদবদল নিয়ে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। খুব সম্ভবত আগামী জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এই বড়সড় রদবদল বা রদবদলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।
জানা যাচ্ছে, বড় কোনও রদবদল বা রিলিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খোদ মোদী সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রতিটি মন্ত্রকের গত এক বছরের কাজের পারফরম্যান্স রিপোর্ট খতিয়ে দেখছেন। একই সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বিজেপির সাংগঠনিক কাজকর্মের দিকটিও। মন্ত্রক ও সংগঠনের কাজের মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করেই আজকের এই জরুরি বৈঠক থেকে বড় কোনও সিদ্ধান্তের সলতে পাকানো শুরু হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।