রাহুলের দাবিতেই কি শেষমেশ সিলমোহর? জাতগণনা নিয়ে বড় ইঙ্গিত সুপ্রিম কোর্টের

দেশজুড়ে জাতগণনা বা জাতিগত জনগণনা প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করতে অস্বীকার করল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, জাতগণনা হবে কি না তা সম্পূর্ণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এতে আদালত হস্তক্ষেপ করবে না। তবে একই সাথে শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, সমাজে পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নতির স্বার্থেই সরকারের কাছে এই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। সুপ্রিম কোর্টের এই মনোভাবের ফলে দেশব্যাপী জাতিগত জনগণনা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা কেটে গেল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আদালতের অবস্থান ও বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি
চলতি বছরের সাধারণ জনগণনার সাথেই জাতিগত তথ্য সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়েছিল। মামলাকারীদের দাবি ছিল, জাতগণনা হলে তথ্যের অপব্যবহার হতে পারে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বড়সড় জটিলতা তৈরি হতে পারে। কিন্তু আদালত এই তত্ত্বকে আমল দেয়নি। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দীর্ঘদিন ধরেই এই জাতগণনার দাবিতে দেশজুড়ে সোচ্চার ছিলেন। নীতিগতভাবে এই প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের ‘সায়’ আসায় জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি একপ্রকার মান্যতা পেল।
জাতীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব
এই রায়ের ফলে ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে চলেছে। নীতীশ কুমার বা চিরাগ পাসওয়ানের মতো এনডিএ শরিক দল থেকে শুরু করে আরএসএস পর্যন্ত এই গণনার পক্ষে আগে থেকেই মত দিয়েছিল। বিহারের মতো রাজ্য ইতিমধ্যেই নিজস্ব উদ্যোগে এই গণনা সেরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতগণনার সঠিক পরিসংখ্যান সামনে এলে দেশের অনগ্রসর ও সংরক্ষণের বাইরে থাকা পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য নতুন কল্যাণমুখী নীতি নির্ধারণ করা সহজ হবে। একই সাথে, সরকারি সুযোগ-সুবিধা বণ্টনে আরও স্বচ্ছতা আসবে, যা আগামী দিনে দেশের প্রান্তিক মানুষের সামাজিক উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।