জন্ম-মৃত্যুর পোর্টালে ‘তালা’! থমকে গেল পুরোনো শংসাপত্র ও ডুপ্লিকেট দেওয়ার কাজ, চরমে ভোগান্তি

আংশিক স্তব্ধ জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র পোর্টাল, চরম ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য এক বড়সড় ধাক্কা। আচমকাই আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হলো জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের কেন্দ্রীয় পোর্টাল। ২০২১ সালে চালু হওয়া স্বাস্থ্যদপ্তরের এই পোর্টালটির মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত পুরসভা ও পঞ্চায়তের জন্ম-মৃত্যুর ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেওয়া হতো। বুধবার থেকে পোর্টালটির কার্যকারিতা আংশিক সীমিত করায় নতুন জন্ম বা মৃত্যুর ঘটনা ছাড়া পুরনো কোনো আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা যাচ্ছে না। ফলে পুরনো সার্টিফিকেট ডিজিটাল করা, হারিয়ে যাওয়া সার্টিফিকেটের ডুপ্লিকেট কপি তোলা বা অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনার নতুন শংসাপত্র পাওয়ার পথ আপাতত বন্ধ।
তদন্তের মুখে এসআইআর পর্বের শংসাপত্র
হঠাৎ পোর্টাল বন্ধের নেপথ্যে রয়েছে একটি বড়সড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যে এসআইআর (স্পেশাল ইনফরমেশন রিকোয়েস্ট) পর্বে ইস্যু করা সমস্ত জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র নতুন করে যাচাই বা রি-ভেরিফিকেশন করা হবে। মূলত ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে দেওয়া শংসাপত্রগুলো এখন সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারিই রাজ্যে এসআইআরে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত বা ‘ফ্রিজ’ করা হয়েছিল। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুধুমাত্র কলকাতা পুরসভাতেই সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শংসাপত্রের আবেদন জমা পড়েছিল, যা এখন স্ক্রিনারের নিচে।
পুরসভাগুলোতে চরম ক্ষোভ ও ভোগান্তি
পোর্টাল আংশিক বন্ধের জেরে কলকাতা পুর canসহ বিভিন্ন পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আছড়ে পড়ছে। ডুপ্লিকেট বা পুরনো শংসাপত্র নিতে এসে দূর-দূরান্তের মানুষ ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে। দফতরগুলোর সামনে দীর্ঘ লাইন এবং নিরাপত্তারক্ষীদের সাথে নাগরিকদের বচসার চিত্রও উঠে এসেছে। লোকসভা ভোটের কারণে বিগত কয়েক মাস যারা পরিষেবা পাননি, পোর্টাল বন্ধের এই নতুন সিদ্ধান্তে তাদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল। তবে বুধবার রাত পর্যন্ত এই বিষয়ে পুরসভাগুলোর কাছে সরকারের তরফ থেকে কোনো লিখিত নির্দেশিকা পৌঁছায়নি, ফলে পোর্টাল কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০২১ সালে চালু হওয়া রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কেন্দ্রীয় জন্ম-মৃত্যু পোর্টালটি বুধবার থেকে আংশিক বন্ধ করা হয়েছে।
- নতুন বা রেগুলার কেস ছাড়া পুরনো শংসাপত্র, ডুপ্লিকেট কপি বা সংশোধনের কাজ সম্পূর্ণ স্থগিত রয়েছে।
- ২০২৫ সালের ১৪ মে থেকে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি (ভোটার তালিকা ফ্রিজ হওয়া) পর্যন্ত দেওয়া শংসাপত্রগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
- আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের কারণে কলকাতা পুরসভাসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনকারীদের ভোগান্তি ও ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করেছে।