পহেলগাঁও হামলার নেপথ্যে কি তবে পাকিস্তান, এনআইএর চার্জশিটে উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য

জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র পহেলগাঁও-এ ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। সম্প্রতি পেশ করা এনআইএ-র চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, ২৬ জন পর্যটকের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ওই নৃশংস হামলার পুরো ছক কষা হয়েছিল পাকিস্তানে বসেই। শুধু তাই নয়, হামলার প্রতিটি মুহূর্ত সীমান্ত পার থেকেই সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল।
লাহৌর থেকে আসছিল সরাসরি নির্দেশ
এনআইএ-র তদন্তে উঠে এসেছে, লস্কর-ই-তইবা (LeT) এবং তার ছায়া সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (TRF)-এর শীর্ষ জঙ্গি সইফুল্লাহ ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘লংড়া’ ছিল এই হামলার মূল হোতা। বর্তমানে ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা এই জঙ্গি পাকিস্তানের লাহৌর থেকে হামলাকারীদের প্রতিনিয়ত নির্দেশ দিচ্ছিল। হামলার দিনও লাহৌর থেকে জঙ্গিদের অবস্থান, গতিবিধি এবং পালানোর রুট সম্পর্কিত তথ্য পাঠিয়ে তাদের গাইড করা হচ্ছিল।
চার্জশিট অনুযায়ী, হামলার ঠিক আগে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ফয়সল জাট ওরফে সুলেমান, হাবিব তাহির ওরফে ছোটু এবং হামজা আফগানি নামের তিন জঙ্গি বৈসরন উপত্যকা ও তার আশপাশের এলাকায় রেকি চালায়। পর্যটকদের যাতায়াত এবং স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেই হামলার চূড়ান্ত সময় ও স্থান নির্ধারণ করা হয়। তাছাড়া, নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া দুটি মোবাইল ফোনের একটি লাহৌরের কায়েদ-এ-আজম ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এবং অন্যটি করাচির শাহরা এলাকা থেকে কেনা হয়েছিল, যা এই হামলায় পাকিস্তানি যোগসূত্রকে আরও স্পষ্ট করে।
আন্তর্জাতিক চাপ ও ভারতের পাল্টা আঘাত
হামলার পর TRF প্রথমে তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল ‘কাশ্মীর ফাইট’-এ দায় স্বীকার করলেও, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তেই তারা দাবি করে যে তাদের চ্যানেলটি হ্যাক করা হয়েছিল। এনআইএ-র মতে, এটি আসলে আন্তর্জাতিক মহলে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে পাকিস্তানের একটি সুপরিকল্পিত ‘ফলস ফ্ল্যাগ’ তত্ত্ব ছড়ানোর চেষ্টা ছিল।
এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া হিসেবে ভারতের পক্ষ থেকে শুরু করা হয় ‘অপারেশন সিঁদুর’। ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জঙ্গিদের উপযুক্ত জবাব দিতে ভারতীয় বায়ুসেনা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে লস্করের একাধিক ঘাঁটিতে নির্ভুল গ্লাইড বোমা, ড্রোন ও ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে নিখুঁত হামলা চালায়। ভারতীয় সেনার এই অতর্কিত ও বিধ্বংসী পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এনআইএ-র এই নতুন চার্জশিট আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত দেওয়ার বিষয়টিকে আবারও নতুন করে প্রমাণ করল।