সরকারি কর্মীদের মুখ খোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল শুভেন্দু প্রশাসন, তীব্র প্রতিবাদে সরব অভিষেক

সরকারি কর্মীদের প্রকাশ্য মন্তব্য ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়ে কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সরকারের একটি নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে সরকারি কর্মচারীরা বিনা অনুমতিতে কোনো বিষয়ে সংবাদমাধ্যম বা গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে মুখ খুলতে পারবেন না, প্রশাসনের হয়ে কেবল নির্দিষ্ট মুখপাত্ররাই বক্তব্য রাখতে পারবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও নতুন নির্দেশিকা
প্রকাশিত নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি কর্মীরা প্রকাশ্য স্থানে বা টেলিভিশন ডিবেটে অংশ নিয়ে সরকার বিরোধী কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। এই খবরটি জানাজানি হতেই বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। তবে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই বিজ্ঞপ্তির ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ নতুন কোনো নিয়ম নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়মকেই কঠোরভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এর আগে আর জি কর কাণ্ডের সময় পুলিশের একাংশের মন্তব্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনের প্রতিটি দপ্তরে নির্দিষ্ট মুখপাত্র থাকেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই অনুমতি ছাড়া অন্যদের মন্তব্য করার ওপর এই রাশ টানা হয়েছে।
গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারি কর্মীদের বাকস্বাধীনতা খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁর মতে, প্রবন্ধ লেখা, সংবাদমাধ্যমে কথা বলা বা সরকারের সমালোচনা করার অধিকার কেড়ে নিয়ে কর্মচারীদের মৌলিক অধিকারের গলা টিপে ধরা হচ্ছে। এটি শৃঙ্খলার জন্য নয়, বরং দিল্লির প্রভুদের প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করার একটি প্রয়াস এবং এর মাধ্যমে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি স্তরে তথ্যের আদান-প্রদান এবং সংবাদমাধ্যমের কাজের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অনুমতি ছাড়া কোনো কর্মী বা আধিকারিক মুখ খুলতে না পারায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠবে, তেমনই এই কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।