হিংসার পথ ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে মূল স্রোতে ২৫ মাওবাদী নেতা

হিংসার পথ ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে মূল স্রোতে ২৫ মাওবাদী নেতা

ঝাড়খণ্ডে মাওবাদী দমনে বড়সড় সাফল্য পেল যৌথবাহিনী। রাজ্য সরকারের পুনর্বাসন প্যাকেজ ‘অপারেশন নবজীবন’-এর ডাকে সাড়া দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন ২৫ জন সশস্ত্র মাওবাদী নেতানেত্রী। তারা সকলেই একসময় সারান্ডার জঙ্গলে সক্রিয়ভাবে নিজেদের নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালাত। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের মাথার দাম ছিল ৫ লক্ষ টাকা করে। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের আরেকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদ’-এরও ২ জন সদস্য অস্ত্র ফেলে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ বেছে নিয়েছেন। আত্মসমর্পণকারী এই সমস্ত উগ্রপন্থীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আধুনিক অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।

কঠোর অভিযান ও পুনর্বাসন প্যাকেজের যৌথ প্রভাব

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক দেশকে মাওবাদ-মুক্ত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, এই ঘটনা সেই লক্ষ্যপূরণের পথে একটি বড় পদক্ষেপ। মূলত সাঁড়াশি কৌশলের কারণেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। একদিকে মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে যৌথবাহিনীর লাগাতার কঠোর অপারেশন এবং অন্যদিকে সরকারের আকর্ষণীয় পুনর্বাসন প্যাকেজ উগ্রপন্থীদের অস্ত্র ছাড়তে বাধ্য করেছে। ঝাড়খণ্ড সরকার মাওবাদীদের ডেরা অর্থাৎ জঙ্গলের কোর এলাকাগুলিতে ২১টি অ্যাডভান্স ক্যাম্প লোকেশন এবং ফরওয়ার্ড operating ডেন তৈরি করে অভিযান জোরালো করেছিল। এই সাঁড়াশি চাপের মুখেই মাওবাদীরা শেষ পর্যন্ত আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেয়।

উদ্ধার বিপুল অস্ত্র ও অবশিষ্ট ঝুঁকি

আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে ইনসাস, রাইফেল, দেশি পিস্তলসহ মোট ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়াকিটকি এবং প্রায় ২৮০০ রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ঝাড়খণ্ড জনমুক্তি পরিষদের সদস্যদের কাছ থেকেও গুলি ও ম্যাগাজিন বাজেয়াপ্ত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ঝাড়খণ্ড থেকে মোট ৪৪ জন সশস্ত্র মাওবাদী গ্রেপ্তার হয়েছে এবং পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে আরও ২২ জন।

তবে এই বড় সাফল্যের পরেও সারান্ডার জঙ্গলে এখনও ৪০ থেকে ৪৫ জন মাওবাদী মরণপণ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই বাংলার সদস্য। এছাড়া ‘তৃত্বীয় প্রস্তুত কমিটি’ (টিপিসি) নামের আরেকটি বিপ্লবী সংগঠনের দাপট এখনও রয়ে গিয়েছে। ফলে এলাকাকে সম্পূর্ণ মাওবাদ-মুক্ত করতে যৌথবাহিনীর এই বিশেষ অভিযান আগামী দিনেও জারি থাকবে বলে জানা গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *