লাহোরে বসেই সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল পহেলগাম হামলা, বিস্ফোরক চার্জশিটে পাক চক্রীর মুখোশ খুলল এনআইএ

গত বছরের এপ্রিল মাসে জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের বৈসরণ উপত্যকায় ঘটে যাওয়া নৃশংস জঙ্গি হামলার নেপথ্যে থাকা পাকিস্তানি ষড়যন্ত্রের অকাট্য ডিজিটাল প্রমাণ সামনে এনেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। বিশেষ আদালতে পেশ করা সাম্প্রতিক চার্জশিটে এনআইএ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই সুপরিকল্পিত হামলার ব্লু-প্রিন্ট শুধু পাকিস্তানেই তৈরি হয়নি, বরং হামলার দিন লাহোরে বসে ‘রিয়্যাল টাইম’ বা সরাসরি প্রতি মুহূর্তের নির্দেশ দিয়ে গোটা অপারেশন নিয়ন্ত্রণ করেছিল মূলচক্রীরা। এই ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে যে, সীমান্তপারের আধুনিক প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে ভারতের মাটিতে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
লাহোর থেকে ‘লাইভ’ নিয়ন্ত্রণ ও রেইকির ছক
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগামে রক্তক্ষয়ী হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। এনআইএ-র চার্জশিট অনুযায়ী, এই হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড নিষিদ্ধ পাক জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তইবা এবং তার ছায়া সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (টিআরএফ)-এর শীর্ষ নেতা সইফুল্লা ওরফে সাজিদ জাট ওরফে ‘ল্যাংড়া’। ভারতের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় থাকা এই সইফুল্লা বর্তমানে পাকিস্তানের গোপন ডেরায় বসে উপত্যকার জঙ্গি কার্যকলাপ পরিচালনা করছে। তদন্তে প্রকাশ, মূল হামলার এক সপ্তাহ আগে তিন জঙ্গিকে দিয়ে পহেলগাম এলাকা পুঙ্খানুপুঙ্খ রেইকি করানো হয়েছিল। এমনকি হামলার দিনও জঙ্গিরা কোথায় লুকোবে, কোন পথে এগোবে এবং অপারেশনের পর কীভাবে পালাবে, তার সব নির্দেশ লাহোর থেকে ‘লাইভ’ দিচ্ছিল সইফুল্লা।
মোবাইল ট্র্যাক ও টেলিগ্রামের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট
হত্যাকাণ্ডের পর ভারতীয় সেনাবাহিনীর চালানো ‘অপারেশন মহাদেব’-এ হামলায় জড়িত তিন জঙ্গি নিহত হয়। তাদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোন পরীক্ষা করতেই লজিস্টিক সহায়তার আন্তর্জাতিক যোগসূত্রটি উন্মোচিত হয়। তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া ফোনের মধ্যে অন্তত দু’টি পাকিস্তানের বাজার থেকে কেনা হয়েছিল, যার একটির ডেলিভারি নেওয়া হয়েছিল লাহোরের একটি শিল্পাঞ্চলে এবং অন্যটি কেনা হয়েছিল করাচি থেকে।
হামলার পর ‘কাশ্মীর ফাইট’ নামের একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল থেকে দায় স্বীকার করা হলেও, পরবর্তীতে কোণঠাসা হয়ে জঙ্গিরা দাবি করে যে তাদের চ্যানেলটি ‘হ্যাক’ হয়েছিল। তবে এনআইএ-র সাইবার বিশেষজ্ঞরা আইপি অ্যাড্রেস ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করে নিশ্চিত হয়েছেন যে, এই বিতর্কিত চ্যানেলটি পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশ থেকে পরিচালনা করা হচ্ছিল। এর পাশাপাশি রাওয়ালপিন্ডি থেকে পরিচালিত আরও একটি প্রোপাগান্ডা চ্যানেলের হদিস মিলেছে। এই অকাট্য ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদের জঙ্গি মদতের নীতিকে আরও একবার কাঠগড়ায় দাঁড় করাল, যা আগামী দিনে পাকিস্তানের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।