বিজেপি ও কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলল ককরোচ জনতা পার্টি

বিজেপি ও কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়ে নেটদুনিয়ায় ঝড় তুলল ককরোচ জনতা পার্টি

দেশের চেনা রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা ও প্রচারের চেনা ছককে এবার বড়সড় ধাক্কা দিল একটি প্রতীকী মঞ্চ। কোনো মাঠ-ঘাটের সভা বা ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নয়, স্রেফ সোশাল মিডিয়ার দেওয়ালে ঝড় তুলে বিজেপি-কংগ্রেসের মতো হেভিওয়েট দলগুলোকে সমাজমাধ্যমের ফলোয়ার সংখ্যায় পেছনে ফেলে দিয়েছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে ১ কোটি ৩৯ লক্ষেরও (১৩.৯ মিলিয়ন) বেশি ফলোয়ার নিয়ে এই ব্যঙ্গাত্মক মঞ্চটি এখন আমজনতা থেকে শুরু করে সেলিব্রিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

প্রতিবাদের নতুন ভাষা ও তারকাদের ঢল

আপাতদৃষ্টিতে একে একটি নতুন রাজনৈতিক দল মনে হলেও, এটি আসলে যুবসমাজের তৈরি একটি প্রতীকী ও ব্যঙ্গাত্মক ফ্রন্ট। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই অভিনব প্রতিবাদের সূত্রপাত। একটি মামলার শুনানির সময় তিনি মন্তব্য করেন, “দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের একাংশ আরশোলার মতো আচরণ করেন।” দেশের বিচারব্যবস্থার শীর্ষ পর্যায় থেকে যুবসমাজকে লক্ষ্য করে এমন মন্তব্য আসায় সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এই অপমানকে হাতিয়ার করেই ‘জেন জি’ বা নতুন প্রজন্মের হাত ধরে জন্ম নেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’।

এই প্রতীকী প্রতিবাদের তীব্রতা এতটাই যে, বিনোদন জগত থেকে শুরু করে মূলধারার রাজনীতিকরা এতে শামিল হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদের মতো ব্যক্তিত্বরা এই মঞ্চে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি বলিউডের প্রথম সারির পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ, কুণাল কোহলি, অভিনেত্রী দিয়া মির্জা, কঙ্কনা সেন শর্মা, এষা গুপ্তা, ফতিমা সানা শেখ এবং কৌতুকশিল্পী কুণাল কামরার মতো তারকারা হুড়মুড় can এই ‘ককরোচ গ্যাং’-এর সোশাল মিডিয়া সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছেন।

উত্স ও সম্ভাব্য প্রভাব

এই অভিনব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক, যিনি ইতিপূর্বে আম আদমি পার্টির (আপ) হয়ে সমাজমাধ্যম প্রচারের কৌশল তৈরিতে কাজ করেছেন। ধর্মনিরপেক্ষ, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক এবং ‘অলস’—এমন বিচিত্র আদর্শ সামনে রেখে পথ চলা শুরু করলেও, এই ফ্রন্টটি কিন্তু নিট (NEET) কেলেঙ্কারির মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর জাতীয় ইস্যু নিয়ে ডিজিটাল মাধ্যমে সরব হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনে এর ফলোয়ার সংখ্যা বিজেপির ৮.৭ মিলিয়ন এবং কংগ্রেসের ১৩.২ মিলিয়নকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, প্রথাগত প্রতিবাদের বাইরে গিয়ে যুবসমাজ এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ক্ষোভ প্রকাশের মূল হাতিয়ার করে তুলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিপুল জনসমর্থন হয়তো সরাসরি ভোটের বাক্সে প্রভাব ফেলবে না, তবে এটি মূলধারার দলগুলোর জন্য একটি বড় বার্তা। যুবসমাজ যে বেকারত্ব বা সিস্টেমের ত্রুটি নিয়ে নিজেদের মতো করে চাপ তৈরি করতে সক্ষম, তা প্রমাণিত। তবে এরই মধ্যে ককরোচ জনতা পার্টির ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলটি ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, যা এই ডিজিটাল লড়াইকে আরও নতুন মাত্রা দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *