দিল্লির বুকে পাকিস্তানি জঙ্গি জাল, টাকার লোভে কিশোরদের গুপ্তচরবৃত্তির ভয়ঙ্কর ছক ফাঁস করল এনআইএ

দিল্লির বুকে পাকিস্তানি জঙ্গি জাল, টাকার লোভে কিশোরদের গুপ্তচরবৃত্তির ভয়ঙ্কর ছক ফাঁস করল এনআইএ

কাশ্মীরের পর এবার খাস দেশের রাজধানী সংলগ্ন এনসিআর (Delhi NCR) এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর জাল। তবে এবার কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উগ্রপন্থী নয়, বরং খোদ দেশের কিশোরদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ও উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো। সম্প্রতি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ-র (NIA) তদন্তে উঠে এসেছে এমনই এক চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাস থেকে এখন পর্যন্ত উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদ থেকে মোট ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে এনআইএ। এর মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরের বিরুদ্ধে গাজিয়াবাদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে একটি বিস্তারিত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। দেশের অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় বসে এরা দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি চালাচ্ছিল বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।

রেলস্টেশন ও নিষিদ্ধ এলাকায় নজরদারি

এনআইএ-র জমা দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, দিল্লি লাগোয়া কৌশাম্বী রেলস্টেশনসহ রাজধানীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশনে সোলার পাওয়ারড সিসি ক্যামেরা লাগানোর কাজে নিযুক্ত ছিল এই কিশোররা। এই কাজের আড়ালেই মূলত চলত দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড। সিসি ক্যামেরার লাইভ ভিডিও আউটপুট এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সুনির্দিষ্ট জিপিএস লোকেশন বা জিয়ো ট্যাগিংয়ের (Geo Tagging) সমস্ত তথ্য তারা সরাসরি তুলে দিয়েছে পাকিস্তানি উগ্রপন্থীদের হাতে। শুধু রেল স্টেশনই নয়, দিল্লির একাধিক চূড়ান্ত সংবেদনশীল এবং নিষিদ্ধ এলাকাতেও (Prohibited Area) সিসি ক্যামেরা ইনস্টল করার সুযোগ নিয়ে সেখানকার গোপনীয় ফুটেজ ও ভৌগোলিক অবস্থান সীমান্তের ওপাড়ে পাচার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, নিজেদের নামে সিমকার্ড তুলে তা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের লিঙ্কম্যানদের হাতেও তুলে দিয়েছে এই কিশোররা।

দারিদ্র্যকে হাতিয়ার করেই পাতা ফাঁদ

তদন্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কিশোরদের অপরাধের জগতে টেনে আনার পেছনে মূল অস্ত্র হিসেবে কাজ করেছে চরম অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা। মূলত অতি দরিদ্র পরিবারের এই সন্তানদের আর্থিক অসহায়তার সুযোগ নিয়েছে পাকিস্তানি উগ্রপন্থীরা। সামান্য কিছু টাকার লোভ দেখিয়ে এবং ব্রেনওয়াশ করে তাদের এই ভয়ঙ্কর দেশবিরোধী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লিপ্ত করা হয়েছিল।

এই চক্রটি যেভাবে সুকৌশলে ভারতীয় রেল ও সংবেদনশীল পরিকাঠামোয় থাবা বসিয়েছে, তা দেশের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। সিসিটিভি ফুটেজ ও জিপিএস লোকেশন হাতে পাওয়ায় পাকিস্তানি উগ্রপন্থীদের পক্ষে যেকোনো বড়সড় নাশকতা বা হামলার ছক কষা সহজ হতে পারত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই চক্রের শিকড় আর কতদূর বিস্তৃত এবং এর নেপথ্যে আরও কোনো প্রভাবশালী মাথা কাজ করছে কি না, তা জানতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে এনআইএ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *