তীব্র গরমে হাঁসফাঁস চারপায়ীদের! পোষ্যকে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে মানুন এই ৫ সহজ নিয়ম

তীব্র গরমে হাঁসফাঁস চারপায়ীদের! পোষ্যকে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে মানুন এই ৫ সহজ নিয়ম

তীব্র গরমে ঝুঁকিতে চারপেয়েরা, পোষ্যকে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচাতে জরুরি বিশেষ সতর্কতা

গ্রীষ্মের তীব্র দাহদাহে মানুষ যেমন হাঁপিয়ে উঠছে, তেমনই নাভিশ্বাস উঠছে ঘরের চারপেয়ে পোষ্যদেরও। তীব্র রোদ, গরম বাতাস এবং ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা কুকুর ও বিড়ালের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের মতো ঘামের মাধ্যমে পোষ্যদের শরীর নিজে থেকে শীতল হতে পারে না। ফলে সঠিক সময়ে উপযুক্ত যত্ন না নিলে তারা দ্রুত জলশূন্যতা, দুর্বলতা, বমি ও তীব্র শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হতে পারে, যা পরবর্তীকালে প্রাণঘাতী হিটস্ট্রোকের রূপ নেয়।

ঝুঁকি এড়াতে দৈনিক অভ্যাসে বদল

তীব্র গরমের দিনগুলোতে পোষ্যের সুরক্ষায় ঘরের পরিবেশ ও তাদের দৈনিক অভ্যাসে কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি। দুপুরের কড়া রোদে বা বিকেলে রাস্তাঘাট অত্যন্ত গরম থাকা অবস্থায় পোষ্যকে বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যাওয়া একদমই উচিত নয়, এতে তাদের পায়ের তালু পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাঁটাচলার জন্য সকালের শুরুর দিক অথবা সন্ধ্যার সময়টা বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ। এছাড়া, ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন শীতল স্থানে বা ফ্যান-কুলারের নিচে তাদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বন্ধ গাড়ির ভেতরে বা তপ্ত বারান্দায় পোষ্যকে একা ফেলে রাখা যাবে না, কারণ বন্ধ জায়গায় তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

খাবার ও শারীরিক পরিচর্যা

এই সময়ে পোষ্যদের সুস্থ রাখতে প্রচুর পরিমাণে পরিষ্কার ও ঠান্ডা জল খাওয়াতে হবে; প্রয়োজনে জলের পাত্রে বরফের টুকরো দেওয়া যেতে পারে। খাবারের তালিকায় গুরুপাক খাদ্য বাদ দিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হালকা ও সহজে হজম হয় এমন খাবার রাখা দরকার। পাশাপাশি, গরমে তাদের শরীরের লোম বা পশম দ্রুত নোংরা হয়ে যায় বলে নিয়মিত তা আঁচড়ে দেওয়া উচিত, যা তাদের শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া লোম অতিরিক্ত ছোট করে ছাঁটা যাবে না। যদি পোষ্য অতিরিক্ত হাঁপাতে থাকে, নিস্তেজ হয়ে পড়ে কিংবা বমি করে, তবে সেটিকে হিটস্ট্রোকের লক্ষণ ধরে নিয়ে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

এক ঝলকে

  • তীব্র গরমে জলশূন্যতা রোধ করতে পোষ্যের জন্য ২৪ ঘণ্টা পর্যাপ্ত ঠান্ডা ও পরিষ্কার জলের ব্যবস্থা রাখুন।
  • দুপুরের কড়া রোদ এড়িয়ে শুধু খুব সকালে অথবা সন্ধ্যায় পোষ্যকে বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যান।
  • অতিরিক্ত হাঁপানো, বমি বা নিস্তেজ ভাব দেখলে দেরি না করে দ্রুত পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
  • গ্রীষ্মে পোষ্যকে হালকা খাবার দিন এবং কোনো অবস্থাতেই তাদের বন্ধ গাড়িতে বা তপ্ত ছাদে একা রাখবেন না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *