ঘূর্ণাবর্তের জোড়া ফাঁসে বিপর্যস্ত বাংলা, দক্ষিণে ভ্যাপসা গরম আর উত্তরে প্রবল দুর্যোগের সতর্কতা!
একই রাজ্যে আবহাওয়ার দুই চরম রূপ। একদিকে দক্ষিণবঙ্গের মানুষ যখন চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় চড়া রোদ আর ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল, ঠিক তখনই উত্তরবঙ্গে চলছে ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন দুই বঙ্গের এই বিপরীতধর্মী আবহাওয়া জারি থাকবে, যার জেরে বিপর্যস্ত হতে পারে জনজীবন।
আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার মূল কারণ
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বাংলা মূলত জোড়া ঘূর্ণাবর্তের ফাঁসে আটকে রয়েছে। এর মধ্যে একটি ঘূর্ণাবর্তের অবস্থান গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও সংলগ্ন বাংলাদেশের ওপর এবং দ্বিতীয়টি অবস্থান করছে পশ্চিম বিহারের বায়ুমণ্ডলে। এই জোড়া ঘূর্ণাবর্তের জেরেই উত্তরবঙ্গে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে, যা সেখানে ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে মেঘলা আকাশ ও বাতাসের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরম চরম আকার ধারণ করেছে।
উত্তরে লাল সতর্কতা ও দক্ষিণে অস্বস্তির পারদ
আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ি—এই ওপরের পাঁচটি জেলায় দফায় দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দুর্যোগের জেরে এই জেলাগুলিতে লাল সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। এছাড়া মালদা এবং দুই দিনাজপুরেও বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই প্রবল বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামা এবং নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঠিক উল্টো চিত্র দক্ষিণবঙ্গে। আগামী রবিবার, ২৪ মে পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বাসিন্দাদের অস্বস্তিকর গরম থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমের মতো পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ইতিমধ্যেই ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছে। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অত্যধিক বেশি থাকায় প্যাচপ্যাচে গরমে নাভিশ্বাস উঠছে মানুষের। মাঝেমধ্যে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে কালবৈশাখী বা সামান্য বৃষ্টি হলেও, তা গরম কমাতে পারছে না। তিলোত্তমা কলকাতাতেও আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। কলকাতায় আজ ঝড়-বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা থাকলেও গরমের অস্বস্তি এখনই কমছে না।