মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ বাধ্যতামূলক করা নিয়ে বিতর্ক, মুখ খুললেন পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি

রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর শুভেন্দু সরকারের একাধিক নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে যখন তীব্র চর্চা চলছে, ঠিক তখনই মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকি। মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলে জানালেও, এটি জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সিএএ এবং পশু কুরবানি নিয়েও একটি ভারসাম্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন এই ধর্মগুরু, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
গণতান্ত্রিক অধিকার ও বন্দে মাতরম বিতর্ক
মাদ্রাসায় ‘বন্দে মাতরম’ গান বাধ্যতামূলক করা প্রসঙ্গে ত্বহা সিদ্দিকি স্পষ্ট জানান, এই গানটি গাওয়া কোনও অপরাধ নয়, তবে কাউকে এটি গাইতে বাধ্য করাও সঠিক নয়। তাঁর মতে, ভারত একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং দেশের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিককে নিজস্ব পরম্পরা ও চিন্তাভাবনার স্বাধীনতা দিয়েছে। ফলে কেউ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই গান গাইতেই পারে, কিন্তু তা জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অন্যদিকে, ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতা কিংবা পুরোহিত ভাতা বন্ধ করে দিলেও তাঁর কোনও আপত্তি নেই বলে জানান তিনি। তবে সরকারের কাছে তাঁর অনুরোধ, সাধারণ মানুষের স্বার্থে যেন স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু রাখা হয়।
আইন ও ধর্মীয় রীতির মেলবন্ধন
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন তথা সিএএ প্রসঙ্গে পীরজাদা পূর্বের মতোই ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই আইন কার্যকর হলে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হিন্দু বা মুসলিম নির্বিশেষে যাদের পূর্বপুরুষরা এই দেশের নাগরিক ছিলেন, তাঁদের যেন অবৈধ তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো না হয়। পাশাপাশি, আসন্ন বকরি ইদ এবং পশু কুরবানি নিয়ে রাজনৈতিক নেতাদের পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি জানান, কুরবানি ইসলামের একটি ধর্মীয় নির্দেশ এবং এর অর্থ কেবল গরু কাটা নয়, যেকোনো হালাল পশুই কুরবানি দেওয়া সম্ভব। তবে মানুষ কী খাদ্য গ্রহণ করবে তা সরকারের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয় এবং আইন সবার জন্য সমান হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।