অবশেষে কাটছে দুর্গাপুরের ৪ বছরের অচলাবস্থা, প্রশাসকমণ্ডলী ভেঙে পুজোর পরেই ভোটের ইঙ্গিত শুভেন্দুর

দীর্ঘ চার বছর ধরে নির্বাচন না হওয়ায় কার্যত অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছিল দুর্গাপুর পুরনিগম। ২০২২ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে কোনো নতুন বোর্ড গঠন না করে কেবল প্রশাসকমণ্ডলী বসিয়েই কাজ চালানো হচ্ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবশেষে অবসান ঘটতে চলেছে দুর্গাপুরের এই বেহাল দশার। বৃহস্পতিবার পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুর্গাপুর পুরনিগমের বর্তমান প্রশাসকমণ্ডলী ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপাতত পুরনিগমের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলাশাসক এস পুণ্যবলমকে। দুর্গাপুরের প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আসন্ন দুর্গাপুজো বা কালীপুজোর আগে-পরে এখানে পুরভোট করানোর জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জোরদার আবেদন জানাবে সরকার। তবে নির্বাচনের আগে আইনি নিয়ম মেনে ডিলিমিটেশন এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
নাগরিক ক্ষোভ ও পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার নেপথ্য কারণ
মোট ৪৩টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত দুর্গাপুর পুরনিগমে শেষবার ভোট হয়েছিল ২০১৭ সালে। সেবার সবকটি ওয়ার্ডেই তৃণমূল জয়লাভ করেছিল। ২০২২ সালে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তৎকালীন পুরদপ্তর প্রথমে ৫ সদস্যের এবং পরবর্তীতে তা কমিয়ে মাত্র ২ সদস্যের (চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান) একটি প্রশাসকমণ্ডলী গঠন করে। অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ে প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যরা নিজেদের ওয়ার্ডেই যেতেন না। অন্যদিকে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রাক্তন কাউন্সিলররাও আইনি নিয়মে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিলেন। ফলে জল সরবরাহ, আবর্জনা সাফাই ও পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো জরুরি নাগরিক পরিষেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে। ২০১৭ সালের নির্বাচনে নাগরিকদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটের প্রস্তুতি ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পশহরের থমকে থাকা উন্নয়ন আবার গতি পাবে। ভোট প্রক্রিয়ার অন্তর্বর্তী সময়ে নাগরিকরা যাতে কোনো পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য বিশেষ তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পলকে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, ভোটের প্রস্তুতি চললেও শহরের দৈনন্দিন কোনো কাজ আটকে থাকবে না। রাজনৈতিকভাবেও এই ভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিগত ২০১৯ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে এই অঞ্চলে বিজেপি ভালো ফল করেছিল। ফলে পুজোর মরশুম শেষেই ভোটের মাধ্যমে দুর্গাপুর পুরনিগমে একটি গণতান্ত্রিক ও স্থায়ী বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া নিশ্চিত হতে চলেছে। তবে এদিনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে স্থানীয় ৭ জন বিধায়ক আমন্ত্রিত থাকলেও রাজনৈতিক সৌজন্য অগ্রাহ্য করে তাঁদের কাউকেই উপস্থিত হতে দেখা যায়নি।