অভিষেকের স্নেহের পাত্রদের দলবদল ও ইস্তফার হিড়িক, নন্দীগ্রামে জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত তৃণমূল

অভিষেকের স্নেহের পাত্রদের দলবদল ও ইস্তফার হিড়িক, নন্দীগ্রামে জোড়া ধাক্কায় বিপর্যস্ত তৃণমূল

রাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে তীব্র ভাঙন ও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে নীচুতলার নেতাদের একের পর এক গ্রেপ্তার এবং প্রশাসনিক সাঁড়াশি চাপে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন খোদ দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই সেনাপতির অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও ভরসার পাত্র হিসেবে পরিচিত নেতারা একে একে পিছু হটতে শুরু করেছেন। ফলতার পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো নন্দীগ্রামের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের নাম।

চাপে পড়ে সস্ত্রীক পঞ্চায়েত পদ থেকে ইস্তফা

ভোটের ফল প্রকাশের পরপরই নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন পবিত্র কর ও তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দর্শিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেও, রাজনৈতিক মহলের মতে এর পেছনে রয়েছে তীব্র প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপ। উল্লেখ্য, পবিত্র ও তাঁর স্ত্রী আদতে বিজেপির টিকিটে পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তারা দলবদল করলেও মেম্বার পদ ছাড়েননি। পরাজয়ের পর এখন সেই পদ ধরে রাখাও তাঁদের পক্ষে আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তৃণমূলের রণকৌশলে চরম ব্যর্থতা

একুশের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের অন্যতম কারিগর ধরা হতো এই পবিত্র করকে। ছাব্বিশের মহারণের আগে গত ১৭ মার্চ অভিষেকের হাত ধরে তাঁর তৃণমূলে যোগদান ছিল এক বড় চমক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে নন্দীগ্রামের মাটি ‘পবিত্র’ করার ডাক দিয়েছিলেন এবং শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তাঁকেই প্রধান হাতিয়ার করেছিলেন। তবে পরিবর্তনের ঝড়ে সেই কৌশল সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে অবশেষে রাজনীতি থেকেই কার্যত পিছু হটলেন তিনি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, নৈতিকভাবে অনেক আগেই পদ ছাড়া উচিত ছিল, এখন দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করছেন তাঁরা। এই ঘটনা তৃণমূলের নীচুতলার সংগঠনে বড়সড় ধস নামাল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *