৪৭ ডিগ্রিতে পুড়ছে দিল্লি, ‘সুপার এল নিনো’র হুঙ্কারে খরা-জলসংকটের মারাত্মক আশঙ্কা

১৫০ বছরের রেকর্ড ভাঙার মুখে তাপমাত্রা, ‘সুপার এল নিনো’-র প্রভাবে চুল্লির মতো জ্বলছে দেশ
চলতি মে মাস শেষ হওয়ার আগেই ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে জুন মাসের মতো হাড়কাঁপানো গরম ও চরম দাবদাহ শুরু হয়েছে। রাজধানী দিল্লি এনসিআর-সহ উত্তর ও মধ্য ভারতের তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বাতাস—সবকিছুই যেন এক তপ্ত চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। সমতলের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রভাব এবার পড়েছে পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও। সিমলা ও উনার মতো শীতল পাহাড়ি অঞ্চলের তাপমাত্রা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে, যা দেখে মনে হচ্ছে পাহাড়ও যেন ঘামছে। স্বস্তির খোঁজে পর্যটকরা পাহাড়ে ছুটলেও মানালির মতো জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
জনজীবনে বিপর্যয় ও বন্যপ্রাণের হাহাকার
দেশজুড়ে চলা এই তীব্র দাবদাহের ফলে প্রতিটি রাজ্যে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দিল্লির সঞ্জয় লেকে মাত্রাতিরিক্ত গরমে বিপুল পরিমাণ মাছ মারা গেছে। পাটনা-সহ বিহারের ১৪টি জেলায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরির বন্যপ্রাণীরা তীব্র গরমে জল ও ছায়ার খোঁজে ছটফট করছে। আলিগড় থেকে শুরু করে বিভিন্ন শহরের হাসপাতালগুলোতে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন ও গরমে অসুস্থ হওয়া রোগীর ভিড় উপচে পড়ছে। ওডিশার ময়ূরভঞ্জ থেকে মধ্যপ্রদেশের খাজুরাহো—সর্বত্রই এখন তীব্র জলের হাহাকার ও আর্তনাদ। তবে এই চরম পরিস্থিতির মধ্যেও জম্মু-কাশ্মীরের ডোডা অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি এবং গুরেজ উপত্যকায় চার থেকে ছয় ইঞ্চি তুষারপাত পর্যটকদের কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে।
‘সুপার এল নিনো’-র হানা ও আগামী দিনের আশঙ্কা
আবহাওয়াবিদরা এক চরম উদ্বেগজনক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক গরম গত ১৫০ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিকভাবে উষ্ণ হয়ে ওঠাকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা বিজ্ঞানীদের মতে একটি ‘সুপার এল নিনো’-তে রূপ নিতে চলেছে। এই প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে ভারতের মৌসুমী বায়ু মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বর্ষার ওপর। দেশের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকা আগামী দিনগুলোতে তীব্র খরা এবং নজিরবিহীন জলসংকটের মুখোমুখি হতে পারে, যা উত্তর ও মধ্য ভারতের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলবে।
এক ঝলকে
- দিল্লির তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছানোর আশঙ্কার মাঝেই দেশের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোও তীব্র গরমে কাবু হয়ে পড়েছে।
- প্রশান্ত মহাসাগরের জল অস্বাভাবিক উষ্ণ হওয়ার কারণে ২০২৬ সালে এক ভয়াবহ ‘সুপার এল নিনো’ সৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
- এই বছর গরমের তীব্রতা গত ১৫০ বছরের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে এবং এর ফলে দেশজুড়ে খরা ও জলসংকটের আশঙ্কা রয়েছে।
- সমতলে তীব্র দাবদাহের কারণে হাসপাতালগুলোতে রোগীর ভিড় বাড়ছে, তবে জম্মু-কাশ্মীরের কিছু এলাকায় তুষারপাত ও বৃষ্টি স্বস্তি এনেছে।