‘একাউন্ট বন্ধ কর, নয়তো আমেরিকায় গিয়ে মারব!’ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে প্রাণনাশের হুমকি

‘একাউন্ট বন্ধ কর, নয়তো আমেরিকায় গিয়ে মারব!’ ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎকে প্রাণনাশের হুমকি

সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যঙ্গাত্মক ও সামাজিক রসধর্মী রাজনৈতিক কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে গত কয়েকদিনে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)। ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বেকার তরুণ-তরুণীদের উদ্দেশ্যে ‘আরশোলা’ (Cockroach) এবং ‘পরজীবী’ (Parasite)-র মতো চরম অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে পুঁজি করে গত ১৬ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে এই প্ল্যাটফর্ম। তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং কীর্তি আজাদও ইতিমধ্যেই এই ‘পার্টি’-তে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছানোর মাঝেই এবার সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি পেলেন এই পেজের প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রবাসী ভারতীয় অভিজিৎ দিপকে (Abhijeet Dipke)। সুদূর আমেরিকায় বসেই হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে এই মারাত্মক হুমকি পেয়েছেন তিনি।

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবং বর্তমান শুভেন্দু অধিকারী সরকারের জমানায় যখন সাইবার অপরাধ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাকস্বাধীনতার ওপর নজরদারি নিয়ে নানামুখী প্রশাসনিক তৎপরতা চলছে, ঠিক তখনই দেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে থাকা এক প্রবাসী ভারতীয়কে এই ধরণের হুমকি দেওয়ার ঘটনা সাইবার দুনিয়ায় তীব্র শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

‘আমেরিকাতে থাকলেও মেরে ফেলব’, স্ক্রিনশট শেয়ার করে সরব অভিজিৎ

শুক্রবার (২২ মে, ২০২৬) এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন অভিজিৎ দিপকে নিজেই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ কয়েকটি চিলিং স্ক্রিনশট শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, “এখন সরাসরি খুনের হুমকিও পাচ্ছি।” অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে হিন্দিতে লেখা বেশ কয়েকটি মারাত্মক হুমকিমূলক মেসেজ পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করা স্ক্রিনশটের মেসেজগুলিতে যা লেখা ছিল:

  • টাকার প্রলোভন ও খুনের হুমকি: অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় লেখা একটি মেসেজে বলা হয়েছে, “শোন, অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার জন্য তোকে টাকা দেওয়া হবে। নাহলে, আমরা তোকে আমেরিকাতে থাকলেও মেরে ফেলতে পারি।”
  • লোকেশন ট্র্যাক করার হুঁশিয়ারি: অপর একটি মেসেজে থ্রেট দিয়ে বলা হয়েছে, “আমাদের কাছে তোর নম্বর আছে। তোর বাড়ি খুঁজে বের করতে আমাদের বিন্দুমাত্র সময় লাগবে না।”

হাস্যরস ও প্যারোডির মাধ্যমে সমসাময়িক রাজনৈতিক দল— বিজেপি, কংগ্রেস, আপ, সিপিআইএম বা তৃণমূলের তামাদি হয়ে যাওয়া নীতির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনের কথা ফুটিয়ে তোলাই ছিল এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। তাদের অভিনব ইস্তাহারে— দলবদলু বিধায়ক-সাংশদদের ২০ বছরের নিষেধাজ্ঞা, নারীদের ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ, বিচারপতিদের অবসরোত্তর রাজনৈতিক সুবিধা বন্ধ, ভুয়ো ভোটার তালিকায় সিইও-কে গ্রেফতার এবং NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসে পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কড়া সংস্কারের দাবি তোলা হয়েছে। এই জনপ্রিয়তাই এখন প্রতিষ্ঠাতা অভিজিতের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াল বলে মনে করছেন নেটিজেনরা।

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপের দাবি

ডিজিটাল মাধ্যমে এই উদ্বেগের কথা প্রকাশের পরই সামাজিক মাধ্যমে অভিজিতের অনুরাগী এবং সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চিন্তা তৈরি হয়েছে। অনেকেই একে বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি ও নগ্ন আঘাত বলে মনে করছেন। সুদূর আমেরিকায় বসে থাকা একজন নাগরিককে এভাবে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খুনের হুমকি দেওয়ার বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক স্তরের সাইবার অপরাধ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত আইপি অ্যাড্রেস ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের লোকেশন ট্র্যাক করে অপরাধীদের চিহ্নিত করা জরুরি। এই পরিস্থিতি ঘটনাপ্রবাহ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয় এবং সাইবার পুলিশ প্রশাসন এর বিরুদ্ধে কী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *