শুভেন্দুর হুঙ্কার! ‘অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে করদাতাদের পয়সা নষ্ট করব না, চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে!’

শুভেন্দুর হুঙ্কার! ‘অনুপ্রবেশকারীদের জেলে রেখে করদাতাদের পয়সা নষ্ট করব না, চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হবে!’

রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের সুবিধা পেতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিজের প্রথম দিল্লি সফরে গিয়েই এতদিন আটকে থাকা সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চালু করার বড়সড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার দিল্লিতে একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সরকারি সংস্থাগুলির সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠকের পর বাংলার জলসম্পদ, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং অনুপ্রবেশ সমস্যা নিয়ে অত্যন্ত কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন তিনি।

বিশেষ করে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা:

“অনুপ্রবেশকারীদের এ রাজ্যে জেলে রেখে ভারতীয় করদাতাদের কষ্টের পয়সা আর নষ্ট করবে না সরকার। তাদের সঠিক উপায়ে চিহ্নিত করার পর সরাসরি নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে।”

বাংলার জন্য ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ জলশক্তি মন্ত্রকের

বিগত তৃণমূল কংগ্রেস জমানায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বারবার বঞ্চনার অভিযোগ তোলা হলেও, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই সেই সমস্ত ‘গেরো’ কাটতে শুরু করেছে। জলশক্তি মন্ত্রকের অধীনে থাকা ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দিতে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে ৩৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শুক্রবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই বিরাট সাফল্যের কথা নিজেই জানান মুখ্যমন্ত্রী।

শনিতেই ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ নিয়ে মেগা বৈঠক, নাম-বিতর্কে তোপ শুভেন্দুর

এই মুহূর্তে নতুন সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat) প্রকল্প চালু করা। দিল্লির মহল্লা ক্লিনিকের আদলে বাংলার বিভিন্ন এলাকায় ছোটখাটো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা বিনামূল্যে চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার পোশাকি নাম ‘আয়ুষ্মান মন্দির’।

এই প্রকল্প দ্রুত রূপায়ণের লক্ষ্যে শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকারের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখান থেকেই এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।

বিগত জমানাকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:

“কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম জোর করে বদলে দেওয়ার কারণেই এতদিন দিল্লির বরাদ্দ আটকে ছিল। আমরা এসে সেই সমস্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান করছি। আগে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’ নামটি রাজ্যে ব্যবহার করতে দেওয়া হয়নি, কারণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ভোটব্যাঙ্ক বা ভোটাররা তাতে ক্ষুব্ধ হতেন।”

স্বাস্থ্য ও পানীয় জলের পাশাপাশি রাজ্যের সড়ক পরিকাঠামোর ভোলবদল করতে পিডব্লুডি (PWD) এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (NHAI)-র কর্তাদের সঙ্গেও এদিন দিল্লিতে জরুরি বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে রাজ্যজুড়ে কাটমানি ও দুর্নীতি চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের মেগা ধরপাকড়, আর অন্যদিকে দিল্লির দরবারে শুভেন্দু অধিকারীর এই উন্নয়নমুখী ও কড়া প্রশাসনিক তৎপরতা— ছাব্বিশের বুকে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *