‘ডবল ইঞ্জিন’ এফেক্ট! নবান্নের আবেদনে দ্রুত সাড়া দিয়ে বাংলায় বাড়ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মেয়াদ, কত দিন? জানাল শাহের মন্ত্রক

কলকাতা হাইকোর্টের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল পদে বিল্লোদল ভট্টাচার্যের নিয়োগ এবং ভুয়ো কাস্ট সার্টিফিকেটধারীদের চাকরি বাতিলের হুঁশিয়ারির মাঝেই, এবার রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিয়ে এক মস্ত বড় খবর সামনে এল। বাংলায় নির্বাচন-পরবর্তী হিংসা নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি বজায় রাখতে আরও বেশ কিছুদিন রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে দেওয়ার যে আবেদন নবান্ন করেছিল, তাতে দ্রুত সাড়া দিল অমিত শাহের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের এই সমন্বয়ের জেরে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোতায়েন থাকছে বিশাল অঙ্কের কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এর আগে বিধাননগর ও দক্ষিণ দমদমে ভোট-পরবর্তী হিংসা ও দোকান দখলের অভিযোগে তৃণমূল কাউন্সিলর টিংকুসহ একাধিক হেভিওয়েটের গ্রেফতারির মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এই সবুজ সংকেত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় এক বড় পদক্ষেপ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
১৬ মে চিঠি নবান্নের, ২০ মে ছাড়পত্র দিল্লির
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছিল। চিঠিতে আবেদন করা হয়েছিল যে, বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা প্রতিরোধ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা হোক। রাজ্য সরকার এই বাহিনী আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত রেখে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল।
নবান্নের সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০ মে, বুধবারই পাল্টা জবাব পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্য অক্টোবর পর্যন্ত সময় চাইলেও, কেন্দ্র আপাতত আগামী ২০ জুন পর্যন্ত এই ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী বাংলায় রেখে দেওয়ার আবেদনে সায় দিয়েছে।
কোন বাহিনীর কত কো ম্পা নি থাকছে বাংলায়?
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে ৫০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী আপাতত থেকে যাচ্ছে, তার বিন্যাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:
- সিআরপিএফ (CRPF): ২০০ কো ম্পা নি
- বিএসএফ (BSF): ১৫০ কো ম্পা নি
- সিআইএসএফ (CISF): ১৫০ কো ম্পা নি
- আইটিবিপি (ITBP): ৫০ কো ম্পা নি
- এসএসবি (SSB): ৫০ কো ম্পা নি
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই বিশাল বাহিনীর যাতায়াত, লজিস্টিকস এবং অন্যান্য সমস্ত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা রাজ্য সরকারকেই করতে হবে।
রেকর্ড গড়ার পর হিংসা দমনে অনড় প্রশাসন
২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ প্রায় ২৪০০ কো ম্পা নি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছিল নির্বাচন কমিশন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষ্যে কমিশনের এই ব্লুপ্রিন্ট অনেকটাই সফল হয়েছে। ভোটের আগে এলাকা দখল রুখতে, বুথ পাহারায়, ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং স্ট্রংরুমের কড়া নিরাপত্তায় এই জওয়ানেরা দিনরাত কাজ করেছেন।
ভোটের পর্ব চুকে গেলেও নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল যে, সব বাহিনীকে এখনই রাজ্য থেকে তুলে নেওয়া হবে না। তার মধ্যেই নবান্নের নতুন সরকার জেলা স্তরে পুরোনো জমানার সিন্ডিকেট ও রাজনৈতিক হিংসার হোতাদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ‘দাবাং মুডে’ কাজ করার ফ্রি-হ্যান্ড দিয়েছে। একদিকে যখন হাওড়ায় ‘গুপ্ত সুড়ঙ্গ’ প্রাসাদের মালিক শামিম আহমেদ ওরফে বড়ে মুম্বই থেকে গ্রেফতার হচ্ছেন, আর অন্যদিকে ভাটপাড়া-হালিশহরে পুরবোর্ড বাঁচাতে কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলরদের ‘মাটি কামড়ে’ পড়ে থাকার নির্দেশ দিচ্ছেন— সেই অত্যন্ত সংবেদনশীল রাজনৈতিক আবহে আগামী ২০ জুন পর্যন্ত বাংলায় এই ৫০০ কো ম্পা নি আধাসামরিক বাহিনীর উপস্থিতি গ্রামীণ ও শহর অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং সুশাসন বজায় রাখতে নতুন শুভেন্দু অধিকারী সরকারকে এক বিরাট বাড়তি অক্সিজেন দেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।