রাস্তায় নমাজ নিষিদ্ধের সরকারি নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল!

রাস্তায় নমাজ নিষিদ্ধের সরকারি নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে তৃণমূল!

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাস্তা আটকে নমাজ পাঠের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নেওয়া কঠোর পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে এবার বড়সড় আইনি লড়াইয়ের রূপ নিতে চলেছে রাজ্য রাজনীতি। সরকারি এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে এবার সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের খবর, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মেটিয়াবুরুজের এক মহিলা তৃণমূল কাউন্সিলর শীঘ্রই এই সরকারি নীতির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করতে চলেছেন।

আজ কালীঘাটের বাসভবনে কলকাতা পুরসভার দলীয় কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই রাস্তা আটকে নমাজ পড়ার ওপর সরকারি বিধিনিষেধের প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়। বৈঠক চলাকালীনই তিনি মেটিয়াবুরুজের ওই কাউন্সিলরকে অবিলম্বে রাজ্য সরকারের এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।

আইনি সংঘাত ও সাম্প্রতিক উত্তেজনা

সম্প্রতি রাস্তা আটকে নমাজ পাঠে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন অংশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ছবি ধরা পড়েছে। বিশেষ করে পার্ক সার্কাস ও রাজাবাজার এলাকায় এই সরকারি নীতিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পার্ক সার্কাসে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন এবং এই ঘটনায় জড়িত বেশ কয়েকজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারও করা হয়।

জনজীবনে প্রভাব ও বিকল্প ব্যবস্থা

সরকারি কড়াকড়ির জেরে চলতি শুক্রবার রাজাবাজার, তোপসিয়া, পার্ক সার্কাস কিংবা তিলজলার মতো মুসলিম প্রধান এলাকাগুলিতে কোনো রাস্তা আটকে নমাজ পড়ার ঘটনা ঘটেনি। যান চলাচল ও জনজীবন স্বাভাবিক রাখতে মসজিদ কমিটিগুলির পক্ষ থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। মসজিদগুলির ভেতরেই পর পর দুটি শিফটে জুম্মার নমাজ পাঠের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল, যার ফলে মুসলিম ধর্মাবলম্বীরা শান্তিপূর্ণভাবেই ধর্মীয় আচার সম্পন্ন করতে পেরেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে রাস্তা সচল রাখা এবং নাগরিক দুর্ভোগ কমানোর যুক্তি থাকলেও, এটিকে কেন্দ্র করে রাজ্যে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে তৃণমূল একে ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটছে, অন্যদিকে সরকার পক্ষ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিজেদের অনড় অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে। এই আইনি লড়াই আগামী দিনে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *