এবার বন্ধ আরশোলা পার্টির ওয়েবসাইট, মোদি সরকারকে স্বৈরাচারী তোপ দেগে সরব অভিজিৎ দীপক

এবার বন্ধ আরশোলা পার্টির ওয়েবসাইট, মোদি সরকারকে স্বৈরাচারী তোপ দেগে সরব অভিজিৎ দীপক

ইনস্টাগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল বন্ধের পর এবার বন্ধ করে দেওয়া হলো ককরোচ জনতা পার্টি বা আরশোলা পার্টির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে যুবসমাজের প্রচারের অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠা এই প্ল্যাটফর্মটির বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। নরেন্দ্র মোদি সরকারকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে লাগাতার ধাক্কা

অভিজিৎ দীপকের দাবি, ককরোচ পার্টির বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই লাগাতার আক্রমণ চালানো হচ্ছে। প্রথমে দলীয় ও তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম পেজ হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়। এরপর ভারতে তাদের মূল এক্স অ্যাকাউন্ট এবং ব্যাকআপ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে এবার দলটির ওয়েবসাইটও বন্ধ করে দিল কেন্দ্র। এই ডিজিটাল যুদ্ধংদেহী মনোভাব ভারতের যুবকদের চোখ খুলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন অভিজিৎ।

ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা ও প্রতিবাদের জের

দেশের প্রধান বিচারপতির একটি ‘কটাক্ষমূলক’ মন্তব্যের প্রতিবাদে প্রতীকী রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। অল্প সময়ের মধ্যেই এটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। বন্ধ হওয়ার আগে পর্যন্ত এই ওয়েবসাইটে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ সদস্য হিসেবে নাম লিখিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, নিট-ইউজি (NEET-UG) সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্কের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই ওয়েবসাইটে একটি পিটিশন চালু করা হয়েছিল, যেখানে ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষ সই করেন। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের নিরিখে বিজেপি ও কংগ্রেসের মতো প্রতিষ্ঠিত দলকেও টেক্কা দেয় এই প্রতীকী দল, যার বর্তমান ফলোয়ার সংখ্যা ২২ মিলিয়ন ছাড়িয়ে গেছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব ও অনড় অবস্থান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবসমাজের এই বিপুল সমর্থন ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলা অনলাইন আন্দোলনই এই ওয়েবসাইট বন্ধের মূল কারণ হতে পারে। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাকস্বাধীনতার অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে ওয়েবসাইট বন্ধ হলেও পিছু হটতে নারাজ আরশোলা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্ব। সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে অভিজিৎ জানিয়েছেন, উন্নত ভবিষ্যতের দাবি করা কোনো অপরাধ নয়। খুব দ্রুতই তারা নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নিয়ে ফিরে আসবেন, কারণ তাদের ভাষায়, ‘আরশোলা কখনও মরে না।’

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *