ডোপমুক্ত ক্রীড়াক্ষেত্রের লক্ষ্যে যুগান্তকারী বিল, শাস্তির মুখে পড়বেন কোচেরাও!

দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে কলঙ্কমুক্ত করতে এবং ডোপিংয়ের শিকড় উপড়ে ফেলতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক। এবার থেকে ডোপিং সংক্রান্ত জালিয়াতিকে সাধারণ নিয়মভঙ্গের গণ্ডি থেকে বের করে সরাসরি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এতদিন ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হলে কেবল ক্রীড়াবিদদেরই নির্বাসনের শাস্তি ভোগ করতে হতো, কিন্তু পর্দার আড়ালে থাকা মূল হোতারা থেকে যেত অধরা। নতুন এই কড়া আইনি ব্যবস্থার ফলে এবার ডোপিং চক্রের নেপথ্যে থাকা ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকারীদের সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হবে।
কঠোর নজরদারিতে কোচ ও সাপোর্ট স্টাফ
প্রস্তাবিত নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিষিদ্ধ মাদকের কেনাবেচা, বিতরণ বা সরবরাহ করা এখন থেকে বড় ধরনের ফৌজদারি অপরাধ। এর ফলে শুধু খেলোয়াড়রাই নন, তাঁদের সঙ্গে যুক্ত কোচ, চিকিৎসক এবং অন্যান্য সাপোর্ট স্টাফদেরও জবাবদিহি করতে হবে। কোনো কোচ বা চিকিৎসক যদি জেনেশুনে ক্রীড়াবিদদের নিষিদ্ধ ওষুধ বা ড্রাগস নিতে বাধ্য করেন, তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে এবং জেল পর্যন্ত হতে পারে। মূলত তরুণ ও উদীয়মান ক্রীড়া প্রতিভাদের কোচেদের চাপ থেকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত।
ক্রীড়াবিদদের শাস্তি ও আইনি ব্যতিক্রম
এই নতুন আইনের মূল লক্ষ্য মাদক সরবরাহকারী বড় চক্রগুলোকে দমন করা, তাই ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়া ক্রীড়াবিদদের সরাসরি জেলে পাঠানো হবে না। খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে ডোপিং-বিরোধী নিয়ম ভাঙার বিষয়টি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির অধীনেই থাকবে এবং এই প্যানেলই তাঁদের নিষেধাজ্ঞা বা অযোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তবে চিকিৎসার প্রয়োজনে কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যদি কোনো নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শে অতিপ্রয়োজনীয় কোনো ওষুধ গ্রহণ করা হয়, তবে খেলোয়াড় কিংবা চিকিৎসক কেউই ফৌজদারি আইনের আওতায় আসবেন না। ভারত যেভাবে আগামীদিনে অলিম্পিক আয়োজনের স্বপ্ন দেখছে, সেখানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল রাখতে এবং পরিচ্ছন্ন ক্রীড়া সংস্কৃতি গড়ে তুলতে এই আইন অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা নেবে।