দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কালিম্পঙে মেডিকেল কলেজ, সুবিচার পেল পাহাড়ের মানুষ

উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করে অবশেষে পাহাড়ে তৈরি হতে চলেছে নতুন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। কালিম্পং জেলায় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাহাড়ের মানুষকে শিলিগুড়ি বা সমতলের ওপর নির্ভর করতে হতো। রাজ্য সরকারের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে কালিম্পং সহ সমগ্র পাহাড়ি অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ঘরের কাছেই আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এই খুশির খবর প্রকাশ্যে আসতেই দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও বঞ্চনার অভিযোগ
কালিম্পঙে মেডিকেল কলেজ ঘোষণার পরপরই উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে। সাংসদ রাজু বিস্তার অভিযোগ, ২০১৯ সাল থেকে তিনি লাগাতার পাহাড়ে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার চরম বৈষম্যমূলক আচরণ করে বারবার এই অতি প্রয়োজনীয় প্রকল্পটিকে আটকে দেয়। ফলে পাহাড়ের সাধারণ মানুষ উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং দীর্ঘদিনের ন্যায্য উন্নয়নমূলক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। সাংসদের দাবি, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিশীল ও জনমুখী নেতৃত্বে অবশেষে পাহাড়ের মানুষ তাঁদের প্রাপ্য সুবিচার পেতে চলেছেন। উল্লেখ্য, রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার ঠিক পরেই তিনি কালিম্পঙে মেডিকেল কলেজ তৈরির দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেই অনুরোধ অনুমোদিত হয়েছে।
উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ব্যাপক ইতিবাচক প্রভাব
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি কালিম্পঙে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাব অনুমোদন করে তা পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোকে শুধু কালিম্পংই নয়, এর পাশাপাশি আলিপুরদুয়ার, দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও নতুন মেডিকেল কলেজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সামগ্রিক উদ্যোগের ফলে উত্তরবঙ্গ ও সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আমূল বদলে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে যেমন প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা দ্রুত ও উন্নত চিকিৎসা পাবেন, অন্যদিকে স্থানীয় স্তরে চিকিৎসা শাস্ত্রের পঠনপাঠন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্স অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়নে নিরলসভাবে পাশে থাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় সরকারকেও বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন বিজেপি সাংসদ।