বন্ধ হচ্ছে চা-বিস্কুটের বিল, অস্থায়ী কর্মীদের ওপর কড়া নজরদারিতে বালুরঘাট পুরসভা

রাজ্যে ক্ষমতা বদলের আবহেই এবার নিজেদের খরচে ব্যাপক রাশ টানল তৃণমূল পরিচালিত বালুরঘাট পুরসভা। সরকার পরিবর্তনের পর শুক্রবার পুরসভার বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সদের (বিওসি) প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে একগুচ্ছ কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুর-কর্তৃপক্ষ। অপ্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনাই এই মুহূর্তের প্রধান লক্ষ্য বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে।
খরচে রাশ ও অস্থায়ী কর্মীদের স্ক্রুটিনি
পুরসভা সূত্রে খবর, এতদিন বৈঠক বা অন্যান্য প্রয়োজনে চা, বিস্কুট ও টিফিনের যাবতীয় খরচ পুর তহবিল থেকে মেটানো হতো, যার পরিমাণ ছিল মাসে ৫০ হাজার টাকারও বেশি। কোষাগারের হাল ফেরাতে এবার সেই সরকারি খরচে পুরোপুরি দাঁড়ি টানা হলো। পাশাপাশি পুরসভার প্রায় ১১০০ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মীর কাজের খতিয়ান নিতে বিশেষ তদন্ত বা স্ক্রুটিনির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এই বিপুল কর্মীবাহিনীর বেতন বাবদ মাসে ৫৬ লক্ষ টাকা খরচ হলেও অনেকে কাজ না করেই বেতন পাচ্ছেন। এখন থেকে প্রতিটি কর্মীর দৈনন্দিন কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখে গাফিলতি বা ভুয়ো উপস্থিতি মিললে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও কোনো অস্থায়ী কর্মীর বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হলেই তাঁকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নতুন কোনও টেন্ডার ডাকা হবে না।
পরিষেবা মাশূলে রদবদল ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
খরচ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নাগরিক পরিষেবার মাশূলেও পরিবর্তন এনেছে পুরবোর্ড। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে শববাহী গাড়ির ভাড়া সম্পূর্ণ মকুব করা হয়েছে। তবে রাজস্ব বাড়াতে জলের ছোট ট্যাঙ্কারের ভাড়া ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা এবং বড় ট্যাঙ্কারের ভাড়া ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। পুরসভার এই পদক্ষেপকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিরোধী শিবির। বালুরঘাট টাউন বিজেপি সভাপতি সমীর প্রসাদ দত্তর দাবি, রাজ্যে সরকার বদল না হলে পুরবোর্ডের এই স্বচ্ছতার কথা মনে পড়ত না। পাল্টা জবাবে পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা জানান, বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মীদের কাজে কড়া নজরদারির এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।