ফলতায় ডায়মন্ড হারবার মডেল চুরমার! অভিষেককে মাছ-ভাত খাওয়ার আমন্ত্রণ বিজয়ী দেবাংশুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র রাজনৈতিক বাণ শানালেন বিজেপির দেবাংশু পাণ্ডা। ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের এক ঐতিহাসিক ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হতেই বিদায়ী সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি মাছ-ভাত খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালেন তিনি। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের বহুল চর্চিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছে বলেও দাবি করেন এই নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক।
তৃণমূলের ভাষা সন্ত্রাসকে কটাক্ষ ও মাছ-ভাতের আমন্ত্রণ
জয়ের শংসাপত্র হাতে পাওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেন দেবাংশু। তিনি বলেন, “আমি একজন শিক্ষিত ছেলে। ওনার (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) মতো কুরুচিকর বা হুমকিমিশ্রিত ভাষা আমি মুখে আনব না। রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখেই আমি ওনাকে বলছি, আসুন, আপনাকে সসম্মানে মাছ-ভাত খাওয়াব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে তৃণমূলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবৃতির পাল্টা হিসেবেই এই ‘মাছ-ভাত’ কূটনীতির তাস খেলেছেন বিজেপি প্রার্থী।
ফলতায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবি
এলাকার আইনশৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়ে দেবাংশু পাণ্ডা স্পষ্ট জানান, ফলতায় দীর্ঘদিনের যে রাজনৈতিক ভয়ের পরিবেশ ছিল, তার অবসান ঘটেছে। তাঁর কথায়, “ফলতা অঞ্চল আর কারও একক ক্ষমতা বা চোখরাঙানিতে চলবে না। এলাকার মা-বোনেদের ওপর আর কোনো রকম অত্যাচার বরদাস্ত করা হবে না। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ফলতায় প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং মানুষ নিজের অধিকার ফিরে পেয়েছে।”
ফলতার এই বিশাল মার্জিনের জয় দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার রাজনীতিতে বিজেপির জমি আরও শক্ত করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যদিকে, নিজেদের গড় হিসেবে পরিচিত ফলতায় লক্ষাধিক ভোটের এই নজিরবিহীন বিপর্যয় নিয়ে তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।