বেলেঘাটায় পার্টি অফিসে ‘বন্দি’ কুণাল ঘোষ! উঠল চোর চোর স্লোগান, রণক্ষেত্র এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘর দেওয়ার নামে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে এবার খোদ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে ঘিরে ধরে নজিরবিহীন বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ক্ষুব্ধ জনতার তাড়া খেয়ে বেলেঘাটার একটি দলীয় কার্যালয়ে ঢুকে কোনোমতে আত্মরক্ষা করেন শাসকদলের এই প্রভাবশালী বিধায়ক। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত জনতা পার্টি অফিসটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নামাতে হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।
৬ মাসের প্রতিশ্রুতি পেরিয়ে ২ বছর, কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের খবর, ঘটনার মূল সূত্রপাত কলকাতা পুরসভার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, অয়ন চক্রবর্তী এলাকার বহু গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছ থেকে নতুন বাড়ি ও ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন। উপভোক্তাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে তাঁদের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেওয়া হবে। কিন্তু ৬ মাস পেরিয়ে ২ বছর কেটে গেলেও কেউ বাড়ি পাননি। এমনকি, তাঁদের জমানো টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
রবিবার এই বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিতে এবং নিজেদের টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে এলাকার শয়ে শয়ে মানুষ রাস্তায় নামেন। ঠিক সেই সময়ই এলাকায় আসেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁকে দেখামাত্রই মহিলারা ঝাঁটা ও লাঠি হাতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।
এলাকাছাড়া কাউন্সিলর, কুণালকে উদ্ধারে নামল কেন্দ্রীয় বাহিনী
বিক্ষোভের আঁচ আঁচ করতে পেরে কুণাল ঘোষ তড়িঘড়ি স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন। কিন্তু ক্ষুব্ধ জনতা পার্টি অফিসের দরজার সামনে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, “কাউন্সিলর অয়ন চক্রবর্তী আমাদের টাকা লুট করে এখন এলাকাছাড়া। বিধায়ককে এর জবাব দিতে হবে এবং আমাদের টাকা বা বাড়ি ফেরত দিতে হবে।”
দীর্ঘক্ষণ দলীয় কার্যালয়ের ভেতরেই কার্যত ‘বন্দি’ হয়ে থাকেন কুণাল ঘোষ। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বেলেঘাটা থানার পুলিশ ও র্যাফ (RAF)। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতিতেও বিক্ষোভের তীব্রতা না কমায়, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Forces) মোতায়েন করা হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের যৌথ ঘেরাটোপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিধায়ককে উদ্ধার করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই ঘটনায় পুরো বেলেঘাটা চত্বরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে, বন্ধ হয়ে গিয়েছে যান চলাচল। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে এখনও এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।