পশু জবাই আইন নিয়ে ‘ভীতি’র পরিবেশ! স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আন্দোলনের ডাক সিপিআইয়ের

পশু জবাই আইন নিয়ে ‘ভীতি’র পরিবেশ! স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে আন্দোলনের ডাক সিপিআইয়ের

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে নতুন সরকারের ‘পশ্চিমবঙ্গ পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০’ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হলো। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI)-র অভিযোগ, এই নতুন নির্দেশিকার জেরে আসন্ন কুরবানির উৎসবের প্রাক্কালে ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে এক ধরনের ‘ভীতি’ ও আশঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যে পূর্বতন স্থিতাবস্থা বজায় রাখার দাবি তুলে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখোমুখি হতে চলেছে বামপন্থী এই দল।

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে প্রতিটি জেলায় দাবিপত্র পেশ

সিপিআই নেতৃত্বের দাবি, বছরের পর বছর ধরে রাজ্যে যেভাবে ধর্মীয় উৎসব ও কুরবানির প্রক্রিয়া চলে আসছে, সেখানে হঠাৎ করে এই আইনের কড়াকড়িতে জনমানসে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এই আইন প্রয়োগের নামে যাতে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষকে হেনস্থা বা ভীতি প্রদর্শন না করা হয়, সেই দাবি জানিয়ে আগামীকাল, সোমবার রাজ্যের প্রতিটি জেলায় জেলাশাসক বা উপযুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে স্মারকলিপি বা দাবিপত্র প্রদান করবে সিপিআই।

আইন ও উৎসবের ভারসাম্য রক্ষার দাবি

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গো-হত্যা এবং পশু জবাই সংক্রান্ত ১৯৫০ সালের পুরনো আইনটি কঠোরভাবে বলবৎ করার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে বামপন্থীদের একাংশের মতে, ধর্মীয় ভাবাবেগ ও দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতিনীতির কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের আরও সংবেদনশীল হওয়া উচিত ছিল। এই আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে উৎসবের মরসুমে যাতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না ঘটে এবং সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় থাকে, সেই লক্ষ্যেই আগামীকাল রাজ্যজুড়ে এই প্রতিবাদী কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সিপিআই সূত্রে জানানো হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *