ডায়মন্ড হারবার মডেল এখন তৃণমূলের ‘হার-বার’ মডেল! ফলতার জয়ের পর অভিষেককে ‘জালিয়াত’ বলে তীব্র তোপ শুভেন্দুর

নিজস্ব প্রতিনিধি: ফলতা বিধানসভা পুনর্নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর এবার ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেনজির ভাষায় আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতার এই নির্বাচনী ফলাফলকে ‘ডায়মন্ড হারবার মডেলের’ কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে বর্ণনা করে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ ও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্ট করেছেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, তৃণমূলের অহংকারের এই কথিত মডেল আসলে এখন ‘হার-বার’ (বারবার হেরে যাওয়া) মডেলে পরিণত হয়েছে।
‘প্যারাসুটে নামা সেনাপতি এক জালিয়াত’
ভোটের ফল স্পষ্ট হতেই নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে ক্ষোভ ও উচ্ছ্বাস উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “কুখ্যাত ডায়মন্ড হারবার মডেল আজ সম্পূর্ণভাবে পরিণত হলো তৃণমূলের ‘হার-বার’ মডেলে। প্যারাসুটে করে ওপর থেকে নেমে এসে নিজেকে ‘সেনাপতি’ আখ্যা দেওয়া এই ব্যক্তি আসলে এক জালিয়াত। এমন কোনো অপরাধ নেই, যা সে এবং তার বাহিনী বিগত দিনে সংগঠিত করেনি।”
বিজেপির রেকর্ড জয়, নোটার সঙ্গে লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ
ফলতায় ১ লক্ষ ৯ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পদ্ম শিবিরের এই মেগা জয়কে গণতন্ত্রের জয় বলে উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। তৃণমূলের এই শোচনীয় পরাজয় ও প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ঘটনাকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও লেখেন, “বিজেপির জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পার করে গিয়েছে। ফলতার মানুষ এই জালিয়াতির যোগ্য জবাব দিয়েছেন।” একই সঙ্গে আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূলকে একপ্রকার উপহাস করে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “এই ফলাফলের পর আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে জেতা তো দূরের কথা, ‘নোটা’ (NOTA)-র বিরুদ্ধে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার এক কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রটি ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অন্তর্গত হওয়ায় এই জয়কে সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবেই তুলে ধরতে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর এই উপনির্বাচনেও বিপুল ব্যবধানে আসনটি ধরে রেখে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনায় তৃণমূলের দুর্গে বিজেপি যে বড়সড় ফাটল ধরাল, মুখ্যমন্ত্রীর এই ফেসবুক পোস্ট তারই প্রমাণ।