‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি! জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলনে এবার সিবিআই তদন্তের দাবি! জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অনলাইন জগতের আলোড়ন ফেলে দেওয়া ব্যঙ্গাত্মক প্রতিবাদ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা আরশোলা আন্দোলনের গতিবিধির বিরুদ্ধে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (CBI) দিয়ে তদন্ত করানোর দাবি উঠল। এই মর্মে ইতিমধ্যেই দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে নেটপাড়ায় ঝড় তোলা এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে আইনি জল গড়াল শীর্ষ আদালতে।

জাল ডিগ্রি ও আদালতের মন্তব্য নিয়ে ব্যবসার অভিযোগ

আইন বিষয়ক খ্যাতনামা ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজা চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদনটি দাখিল করেছেন। মামলাকারীর মূল অভিযোগ, দেশে ভুয়ো আইনজীবী এবং জাল আইন ডিগ্রির রমরমা বিচার ব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও মান চরমভাবে নষ্ট করছে। এর পাশাপাশি আদালতে শুনানির সময় বিচারপতিদের মুখের কথা বা তাৎক্ষণিক মন্তব্যকে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে, সেটিকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে দেখিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ অনৈতিকভাবে ব্যবসা ও টাকা কামানোর পথ তৈরি করেছে। এই চক্রের পেছনে কারা রয়েছে, তা খুঁজে বের করতে সিবিআই তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

কী এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ আন্দোলন?

সম্প্রতি দেশের বেকারত্ব, বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের প্রতি সিস্টেমের অবহেলার বিরুদ্ধে একটি রসাত্মক ও কড়া প্রতিবাদ হিসেবে এই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র জন্ম হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপকের মতে, ‘আরশোলা’ বা ককরোচ কোনো দুর্বলতার নাম নয়, বরং এটি চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতীক। সমাজের অবহেলিত ও কর্মহীন যুবসমাজ যে ফুরিয়ে যায়নি এবং তারা এখনও মাথা তুলে নিজেদের অধিকারের কথা বলতে পারে, সেটাই এই অভিনব আন্দোলনের মূল বার্তা। বেকারত্ব দূরীকরণ, সরকারি ব্যবস্থার জবাবদিহি এবং তরুণ প্রজন্মের প্রশ্ন তোলার অধিকারের কথাই বলা হয়েছে এই দলের ইশতেহারে।

বিতর্কের সূত্রপাত প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে

জানা গিয়েছে, দেশের যুবসমাজকে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই এই তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত। আদালতের শুনানিতে বেকার যুবকদের একাংশকে ‘আরশোলা’ ও ‘পরজীবী’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল বলে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, যা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। সেই পুঞ্জীভূত রাগ থেকেই ডিজিটাল মাধ্যমে জন্ম নেয় এই ‘সিজেপি’ আন্দোলন।

সংগঠকের পুনের বাড়িতে পুলিশ পাহারা, বন্ধ এক্স হ্যান্ডেল

বিতর্ক ও উত্তেজনার জেরে ইতিমধ্যেই ভারতে এই সংগঠনের অফিশিয়াল ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, তাঁদের ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলির ওপর নানা বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, পুনে থেকে সাংবাদিকতায় পাস করার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক রিলেশনসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অভিজিৎ ইতিপূর্বে আম আদমি পার্টির (AAP) নির্বাচনী প্রচারের স্ট্র্যাটেজিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন।

বর্তমানে অভিজিৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও, এই অনলাইন আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলার অবনতি বা কোনো অপ্রীতিকর জমায়েত রুখতে ছত্রপতী সম্ভাজিনগরে তাঁর পৈতৃক বাড়ির সামনে দিনরাত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় সুরক্ষাজনিত কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। সুপ্রিম কোর্ট এই সিবিআই তদন্তের আর্জি গ্রহণ করে কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *