নিরাপত্তা বাড়তেই কেন এই সিদ্ধান্ত? কাকলির পদক্ষেপে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

নিরাপত্তা বাড়তেই কেন এই সিদ্ধান্ত? কাকলির পদক্ষেপে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন ও জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক নাটকীয় মোড় নিল রাজ্যের শাসকদলের রাজনীতি। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ হারানোর পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল, তা এবার সরাসরি পদত্যাগের রূপ নিল। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তাঁকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক গুঞ্জন এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এক নতুন মাত্রা পেল।

নব্য সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও পদত্যাগ

সম্প্রতি লোকসভার মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের চার দশকের আনুগত্যের কথা স্মরণ করিয়ে ‘পুরস্কৃত’ হওয়ার উপহাস করেছিলেন তিনি। এর পরপরই তাঁর বাসভবনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়ায়। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সুব্রত বক্সীকে পাঠানো পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে এনে কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, উত্তর ২৪ পরগনায় দলের খারাপ ফলের দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দলের অন্দরে ‘বৈভব ও দুর্বৃত্তায়ন’ নিয়ে বিস্ফোরক

তৃণমূলের এই প্রবীণ নেত্রীর ক্ষোভের তির মূলত দলের একাংশের ‘নব্য’ নেতা ও সাম্প্রতিক সংস্কৃতির দিকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানান, গত কয়েক বছরে দলে যে বিপুল বৈভব এবং অস্বচ্ছতা তৈরি হয়েছে, তার সঙ্গে তিনি কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছিলেন না। ২০১১ সালের পর দলে আসা সুযোগসন্ধানী নেতাদের অহমিকা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবীণদের প্রতি আসাম্মানজনক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। একই সঙ্গে, এবারের নির্বাচনে দলের ভরাডুবির পেছনে শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি করা ‘ভোট লুঠের’ তত্ত্বকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে তিনি আঙুল তুলেছেন দলের অভ্যন্তরীণ অহংকার, দুর্বৃত্তায়ন এবং অসৎ আচরণের দিকে। তাঁর মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার সাধারণ মানুষ মেনে নেয়নি বলেই এই নির্বাচনী বিপর্যয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক সময়ের এই পুরোনো সহযোদ্ধার পদত্যাগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি নিয়ে এমন বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরে পুরোনো বনাম নব্য শিবিরের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই পদক্ষেপের ফলে উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দলীয় সংগঠনে বড় ধরনের রদবদল ও প্রভাব পড়তে চলেছে। তবে এই বিষয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনই চূড়ান্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দলীয় বিধায়ক কুণাল ঘোষ একে দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে আপাতত মন্তব্য এড়িয়ে গেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *