আজানের লাউডস্পিকার বিতর্ক নিয়ে বড় বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

কলকাতায় আয়োজিত একটি সভা থেকে আজানের লাউডস্পিকারের শব্দসীমা নিয়ে চলা বিতর্কের অবসান ঘটাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ও সংবিধানের অধিকার মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে নিশানা না করে শব্দের তীব্রতা মাপার একক বা ডেসিমেলের একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হোক, যা রাজ্যের সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
আইনের চোখে সবাই সমান
আজানের শব্দ নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হওয়া বিতর্কের তীব্র সমালোচনা করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মুসলিমদের আপনারা পছন্দ করেন না। আজান আপনারা চান না। একটা কাজ করতে পারেন, ডেসিমেলের সীমা টেনে দিন। সবার জন্য একই নিয়ম করুন।” তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ভারতীয় সংবিধান দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান অধিকার দিয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ধর্মীয় রীতিনীতিকে আলাদাভাবে কোণঠাসা করা আইনত ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
সম্ভাব্য প্রভাব ও কারণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আজানের লাউডস্পিকারের আওয়াজ নিয়ে বিভিন্ন মহলে যে বিতর্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতেই এই মন্তব্য করা হয়েছে। যেকোনো একটি ধর্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা না চাপিয়ে সামগ্রিকভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য ‘ডেসিমেল সীমা’ নির্ধারণের এই প্রস্তাব প্রশাসনিকভাবে বেশ কার্যকর হতে পারে। এতে একদিকে যেমন উৎসব-অনুষ্ঠান বা ধর্মীয় প্রার্থনায় শব্দের দাপট কমবে, অন্যদিকে কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মনে বৈষম্যের ক্ষোভ তৈরি হবে না। সর্বজনীন নিয়ম চালুর এই বার্তা রাজ্যে সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।