হরিয়ানায় ফ্ল্যাটে ঢুকে দম্পতিসহ তিনজনকে নৃশংস কোপ, সোনিপতে রক্তাক্ত ট্রিপল মার্ডার!

হরিয়ানার সোনিপত জেলার কুন্ডলি থানা এলাকায় এক আবাসন থেকে উদ্ধার হলো স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের রক্তাক্ত মৃতদেহ। ফ্ল্যাটের ভেতর ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। নৃশংস এই হামলার জেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তিনজনের। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের জেরে গোটা কুন্ডলি এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতদের নাম বিজয়, সুনিতা এবং স্বাতী। এদের মধ্যে বিজয় ও সুনিতা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। তারা কুন্ডলি থানা এলাকার একটি বিপিএল ফ্ল্যাটে থাকতেন। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই একই আবাসনের বাসিন্দা ব্রহ্মপ্রকাশ নামের এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই নৃশংস খুন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তদন্তে ফরেন্সিক ও সিসিটিভি
ঘটনার খবর পেয়েই কুন্ডলি থানার পুলিশ এবং সোনিপত পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রমাণ সংগ্রহের জন্য নিয়ে আসা হয় বিশেষ ফরেন্সিক টিম। আপাতত পুলিশ ঘটনাস্থলটি সিল করে দিয়েছে এবং তিনটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোনিপতের সিভিল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে একাধিক বিশেষ টিম গঠন করেছে এবং আবাসনের চারপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।
তীব্র আতঙ্ক ও সম্ভাব্য কারণ
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গভীর রাতে তারা ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে আর্তচিৎকারের শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। কিন্তু আতঙ্কিত প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সব শেষ হয়ে যায় এবং অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে, পারিবারিক কোনো বড় বিবাদ, আকস্মিক উত্তেজনা কিংবা পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই ভয়ঙ্কর অপরাধ ঘটে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রের সন্ধান মিললে মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ধরন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের আসল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।