মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে জমি-চাকরি চুরির নালিশ, ভবানীপুরের বৃদ্ধের কান্না সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে!

সোমবার সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক ‘জনতার দরবারে’ সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, প্রতারণা এবং বঞ্চনার একাধিক চাঞ্চল্যকর চিত্র ফুটে উঠল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বিশেষ কর্মসূচিতে এসে হাজির হন সমাজের বিভিন্ন স্তরের ভুক্তভোগী মানুষ। এদিন একদিকে যেমন ২৬ হাজার চাকরিহারাদের প্রতিনিধিরা তাঁদের যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ ফেরানোর আর্জি জানান, ঠিক তেমনই পৈতৃক জমি দিয়েও ফ্ল্যাট না-পাওয়ার মারাত্মক জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে হাজির হন ভবানীপুরের ৮১ বছর বয়সি অশীতিপর বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়।
প্রমোটিং চক্রের জালিয়াতি ও সর্বস্বান্ত বৃদ্ধ
ভবানীপুরের বাসিন্দা প্রবীর মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগের তির অধুনা ইডির জালে বন্দি ব্যবসায়ী জয় কামদার ও সোনা পাপ্পুর দিকে। বৃদ্ধের দাবি, নিজের পৈতৃক সম্পত্তি তিনি প্রমোটিংয়ের জন্য জয়ের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে আবাসন তৈরি হলেও তাঁকে কোনো ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি। উলটে গ্রেফতার হওয়ার আগে জয় কামদার তাঁর কাছে উলটো ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন। বর্তমানে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে দিন কাটছে এই বৃদ্ধের। এই ঘটনার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে কলকাতার কুখ্যাত প্রোমোটিং সিন্ডিকেট চক্রের প্রভাব। সম্প্রতি ইডির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি ও সম্পত্তি হস্তগত করাই ছিল ধৃত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু, বেহালার জয় কামদার এবং কলকাতার পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের ত্রয়ীর মূল কাজ। এই ধরনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারণেই সাধারণ নাগরিকরা নিজেদের আইনি সম্পত্তি হারিয়ে আজ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন।
চাকরি দুর্নীতি ও সংরক্ষণের দাবিতে ক্ষোভ
এদিনের দরবারে শুধু প্রমোটিংয়ের জালিয়াতিই নয়, রাজ্যের শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত দুর্নীতির প্রভাবও স্পষ্ট হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় গত ১৫ বছর ধরে স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ থাকা এবং পদগুলোকে অস্থায়ী করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সরব হন মলয় সিংহ রায়। অন্যদিকে, রাজ্যের কিছু সরকারি চাকরিতে অনাথদের কোটা বা সংরক্ষণ তুলে দেওয়ার ফলে তৈরি হওয়া জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ জানান সুচিত্রা দে। চাকরিপ্রার্থীদের মোট ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধি এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যার ফলে ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের।
প্রত্যেকের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসে আইনি লড়াইয়ে নতুন গতি আসবে এবং বঞ্চিতরা তাঁদের অধিকার ফিরে পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দরবার শেষ করে দুপুর ১২টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেক কার্যালয় থেকে সরাসরি নবান্নের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।