অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেয়নি এনটিএ, নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় কড়া মন্তব্য সুপ্রিম কোর্টের

ডাক্তারি পড়ার সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট-ইউজি)-র প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্কের মাঝে এবার শীর্ষ আদালতে বড়সড় ধাক্কা খেল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। নিট পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা এই সংস্থার ভূমিকা নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অতীতের প্রশ্নফাঁসের ঘটনা থেকে এনটিএ কোনও শিক্ষা নেয়নি, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বদলের দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে এনটিএ, কেন্দ্র সরকার এবং সিবিআই-এর জবাব তলব করেছে আদালত।
আদালতের ক্ষোভ ও পুরোনো মামলার স্মৃতি
এর আগে ২০২৪ সালেও নিট পরীক্ষায় ব্যাপক প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ উঠেছিল এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। সোমবার শুনানির সময় পুরনো সেই মামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত জানায়, পূর্ববর্তী ঘটনার পর একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল এবং তাদের বেশ কিছু সুপারিশ গ্রহণও করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সমস্ত সুপারিশ আদৌ বাস্তবায়িত হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে হলফনামা জমা দিয়ে এনটিএ-কে এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংস্থা বদলের দাবি ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
প্রশ্নফাঁস এবং পরীক্ষা বাতিলের জেরে পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত, তখন ‘ফেডারেশন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে এনটিএ-র পরিকাঠামোগত সংস্কার অথবা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্ব অন্য কোনও স্বশাসিত ও নির্ভরযোগ্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। নতুন কোনও স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে। গত ৩ মে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রশ্নফাঁসের জেরে তা বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আগামী ২১ জুন পুনরায় এই পরীক্ষা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বারবার এই ধরনের ঘটনায় দেশের চিকিৎসা শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা যেমন সংকটে পড়েছে, তেমনই লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।