ত্বিশা মৃত্যু মামলায় বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে টানাপোড়েন, সব পক্ষকে প্রকাশ্য মন্তব্যে রাশ টানার কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

ত্বিশা মৃত্যু মামলায় বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে টানাপোড়েন, সব পক্ষকে প্রকাশ্য মন্তব্যে রাশ টানার কড়া বার্তা সুপ্রিম কোর্টের

ভোপালে প্রাক্তন মডেল ও অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় বিচারব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে ওঠা নানা প্রশ্নে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ত্বিশার শাশুড়ি একজন প্রাক্তন বিচারক হওয়ায় এই মামলার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করে সাফ জানিয়েছে, ঘটনার একটি স্বচ্ছ, স্বাধীন ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে আদালতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া ঠেকাতে এবং তদন্তের স্বার্থে সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে প্রকাশ্য মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে এই হাই-প্রোফাইল মামলাটির শুনানি হয়। শুনানিতে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, সামাজিক মাধ্যমে বা সংবাদমাধ্যমে চলা লাগামহীন জল্পনা তদন্তের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই মামলার সঙ্গে যুক্ত উভয় পরিবারকে সংবাদমাধ্যমে মুখ না খুলে সরাসরি তদন্তকারী সংস্থার কাছে নিজেদের বক্তব্য জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষকেও এই সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সব ধরনের জল্পনা-কল্পনা থেকে দূরে থাকার আর্জি জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।

পণের দাবিতে অত্যাচার বনাম মাদকাসক্তির পাল্টা অভিযোগ

গত ১২ মে ভোপালের কাটরা হিল্‌স এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিশা শর্মার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার পর থেকেই ত্বিশার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, পণের দাবিতে তাঁর ওপর চরম মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালানো হত। এই আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ত্বিশার স্বামী, পেশায় আইনজীবী সমর্থ সিংহকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তের পরিবার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহের পরিবারের দাবি, ত্বিশা মাদকাসক্ত ও অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। এই পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জেরে পুরো বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করেছে।

তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য প্রভাব

ঘটনার সংবেদনশীলতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের ওপর অনাস্থার জের ধরে মধ্যপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর হাতে তুলে দিয়েছে। সিবিআই-এর একটি বিশেষ দল ইতিমধ্যেই তদন্তের উদ্দেশ্যে ভোপালে রওনা হয়েছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রদেশ সরকার এবং ত্বিশার পরিবার যৌথভাবে মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে অভিযুক্ত শাশুড়ি গিরিবালার আগাম জামিন খারিজের আবেদন জানিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে মধ্যপ্রদেশ সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা মন্তব্য করেন, এই মামলা দেশের সমস্ত বাবা-মায়ের চোখ খুলে দেওয়ার জন্য একটি বড় উদাহরণ। এটি প্রমাণ করে যে, মৃত কন্যার চেয়ে সমাজে একজন বিবাহবিচ্ছিন্না কন্যা থাকা অনেক বেশি শ্রেয়। সর্বোচ্চ আদালতের এই কড়া অবস্থানের ফলে একদিকে যেমন সিবিআই-এর ওপর দ্রুত ও নিখুঁত তদন্তের চাপ বাড়ল, অন্যদিকে প্রভাবশালী যোগসূত্রের কারণে তদন্তে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্বের সুযোগও কার্যত বন্ধ হয়ে গেল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *