ত্বিশার মৃত্যুরহস্যে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা কি সফল, তদন্তের রাশ হাতে নিয়ে ধোঁয়াশা কাটানোই এখন সিবিআইয়ের বড় চ্যালেঞ্জ!

ভোপালের বাসিন্দা ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুর ঘটনাটি দিন দিন আরও জটিল রূপ ধারণ করছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েছে সিবিআই। গত ১২ মে রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে ত্বিশার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক থাকা স্বামী সমর্থ সিংহের আত্মসমর্পণ এবং মৃতার শাশুড়ি তথা অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গিরিবালা সিংহের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, হাই কোর্টের নির্দেশে ভোপাল এমসে ত্বিশার দেহের দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, যার রিপোর্টের ওপর এখন মামলার ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ
ত্বিশার মৃত্যুর পর থেকেই তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুলিশের চরম গাফিলতি এবং তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণে খামতির অভিযোগ তুলছে তাঁর পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, প্রথম ময়নাতদন্তের সময় গলায় ফাঁস দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত বেল্টটি চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছানোই হয়নি, যা তদন্তকারী আধিকারিকের নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এছাড়া, ঘটনার পর প্রায় দু’দিন শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের ঘটনাস্থলে অবাধ যাতায়াত ছিল, যার ফলে সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাড়িতে আটটি সিসি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও সেগুলির ফুটেজ এবং সময়ের অসংগতি নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শাশুড়ির দাবি নতুন করে রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
প্রভাবশালীদের আড়াল ও এফআইআরে বিলম্বের কারণ
এই মামলার অন্যতম প্রধান বিতর্ক হলো এফআইআর রুজু করতে পুলিশের অস্বাভাবিক দেরি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই ধারাবাহিক অভিযোগ করা হলেও, আইনজীবী স্বামী এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারক শাশুড়ির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে পুলিশ কেন গড়িমসি করল, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা ‘প্রভাবশালী’ হওয়ায় তাঁদের বাঁচাতেই সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মাঝেই স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামী সমর্থের আচমকা ‘উধাও’ হয়ে যাওয়া, পুলিশের লুকআউট নোটিস ও পুরস্কার ঘোষণার পর তাঁর আত্মসমর্পণ করার ঘটনাটি দাম্পত্য কলহ ও অপরাধের দিকেই ইঙ্গিত করছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ত্বিশার কিছু হোয়াট্সঅ্যাপ চ্যাটও তাঁদের অশান্ত দাম্পত্যের সাক্ষ্য দিচ্ছে। এই সমস্ত প্রভাব খাটানোর চেষ্টা এবং অমীমাংসিত প্রশ্নগুলোর জট ছাড়িয়ে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করাই এখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মূল লক্ষ্য।