মেনোপজের পর বাড়ছে কাঁধের তীব্র ব্যথা, অবহেলায় লুকিয়ে বড় বিপদ!

চল্লিশোর্ধ্ব নারীদের মধ্যে ইদানীং একটি বিশেষ শারীরিক সমস্যা প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। হাত তুলতে গেলে কাঁধে প্রচণ্ড টান লাগা, জামাকাপড় পরা বা চুল বাঁধার মতো দৈনন্দিন কাজে তীব্র ব্যথা অনুভব করা এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। চিকিৎসকেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মেনোপজ বা রজোনবৃত্তির পর নারীদের মধ্যে ‘ফ্রোজেন শোল্ডার’ বা কাঁধ শক্ত হয়ে যাওয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ বয়সজনিত সমস্যা ভেবে এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কারণে পরবর্তীতে নারীরা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস’। এই সমস্যায় কাঁধের জয়েন্ট বা সন্ধিস্থলটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে এবং শক্ত হয়ে যায়। প্রাথমিক অবস্থায় মৃদু ব্যথা দিয়ে শুরু হলেও, সময়মতো গুরুত্ব না দিলে একপর্যায়ে হাত নাড়ানোও আসাম্ভব হয়ে পড়ে। এমনকি রাতে ঘুমের সময় পাশ ফিরতেও চরম কষ্ট পেতে হয় ভুক্তভোগীদের।
ঝুঁকি বাড়ার মূল কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেনোপজের পর নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন নামক হরমোনের ক্ষরণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এই হরমোন কেবল প্রজনন স্বাস্থ্যই রক্ষা করে না, বরং শরীরের সংযোগকারী টিস্যু, জয়েন্টের নমনীয়তা এবং প্রদাহ নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখে। ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং তা শক্ত হতে শুরু করে।
পাশাপাশি, এই বয়সে শরীরে কোলাজেন উৎপাদন কমে যাওয়ায় টিস্যুর স্থিতিস্থাপকতা নষ্ট হয়। ফলে ছোটখাটো আঘাত বা পেশির টান সহজে সারে না। এর সাথে যুক্ত হয় জয়েন্টের লুব্রিকেশন বা তৈলাক্তভাব কমে যাওয়া। মূলত ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সি নারীরা এই সমস্যার প্রধান শিকার। বিশেষ করে যাঁদের ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে এবং যাঁরা দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করেন কিংবা শারীরিক পরিশ্রমে অভ্যস্ত নন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রোগটি দ্রুত থাবা বসায়।
প্রভাব ও প্রতিকারের উপায়
সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না করলে এই সমস্যা কর্মক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে, যা দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে স্থবির করে দেয়। হাত উপরে তুলতে সমস্যা হওয়া, রাতে ব্যথা বাড়া কিংবা কাঁধে সার্বক্ষণিক শক্তভাব অনুভব করার মতো লক্ষণ দেখা দিলেই অবিলম্বে সচেতন হওয়া জরুরি।
চিকিৎসকেরা আশ্বস্ত করেছেন যে, প্রাথমিক অবস্থায় ফ্রোজেন শোল্ডার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এর জন্য প্রধানত ফিজিওথেরাপি, নির্দিষ্ট কিছু স্ট্রেচিং এক্সারসাইজ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করা হয়। তবে সমস্যা জটিল আকার ধারণ করলে জয়েন্টের নড়াচড়া সচল করতে ‘হাইড্রোডাইলেশন’ পদ্ধতি কিংবা গুরুতর ক্ষেত্রে ‘আর্থোস্কোপি’ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শক্ত টিস্যু আলগা করার প্রয়োজন হতে পারে। তাই মেনোপজ-পরবর্তী কাঁধের যেকোনো অস্বস্তিকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সুস্থ থাকার একমাত্র উপায়।