অতিরিক্ত কুলিং পাউডারে ত্বকের দফারফা, গরমের সাময়িক স্বস্তিতে লুকিয়ে বড় বিপদ!

তীব্র গরমে কলকাতা থেকে শহরতলি, সর্বত্রই নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। বেলা বাড়তেই ঘরের পাখা থেকে যেন আগুন বেরোতে থাকে। এই চড়া রোদে ও ভ্যাপসা গরমে সাময়িক স্বস্তি পেতে অনেকেই স্নানের পর কিংবা রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে শরীরে মুঠো মুঠো ‘কুলিং পাউডার’ ব্যবহার করছেন। গলা, ঘাড় বা পিঠে পাউডার লাগানোর সাথে সাথেই যে বরফ-শীতল আরাম মেলে, তাকে অনেকেই ‘স্বর্গসুখ’ মনে করছেন। তবে ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাময়িক সুখের আড়ালেই লুকিয়ে রয়েছে চরম বিপদ। যে পাউডারকে পরম বন্ধু ভাবা হচ্ছে, তা আসলে নিঃশব্দে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করছে।
কৃত্রিম শীতলতার মায়া ও ত্বকের ক্ষতি
চিকিৎসকদের মতে, কুলিং পাউডারে ব্যবহৃত মেন্থল বা কর্পূর শরীরের স্নায়ুকে সাময়িকভাবে উত্তেজিত করে তোলে, যার ফলে ত্বকে একটি কৃত্রিম শীতলতার অনুভূতি তৈরি হয়। বাস্তবে এই পাউডার ঘাম হওয়া আটকাতে পারে না এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা কমাতেও এর কোনো ভূমিকা নেই। তীব্র গরমে পাউডার মাখার কিছুক্ষণ পরেই যখন পুনরায় ঘাম হতে শুরু করে, তখনই আসল বিপত্তি ঘটে। পাউডারের স্তরের নিচে ঘাম এবং বাইরের ধুলোবালি আটকে গিয়ে ত্বককে আরও বেশি স্যাঁতসেঁতে করে তোলে। এই চটজলদি স্বস্তির পেছনে কোনো চিকিৎসাগত গুণ বা উপকারিতা নেই, বরং পাউডারের তীব্র কৃত্রিম সুগন্ধি ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাকবচ সম্পূর্ণ নষ্ট করে দেয়।
সংক্রমণের আশঙ্কা ও বিশেষজ্ঞদের বিকল্প পরামর্শ
সংবেদনশীল বা সেন্সিটিভ ত্বকের ক্ষেত্রে এই মেন্থল অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন শরীরের বিভিন্ন ভাঁজযুক্ত অংশে এই পাউডার ব্যবহার করলে লোমকূপের মুখগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ ধরে ঘাম এবং পাউডার মিশে সেখানে একটি আঠালো আস্তরণ তৈরি হয়, যা ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, র্যাশ এবং গুরুতর অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দেয়।
এই পরিস্থিতি এড়াতে চিকিৎসকেরা কৃত্রিম উপায়ের চেয়ে প্রাকৃতিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে স্নানের পর শরীরের প্রতিটি ভাঁজ তোয়ালে দিয়ে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে ফাঙ্গাস বাসা বাঁধতে না পারে। সিন্থেটিক পোশাক বর্জন করে হালকা রঙের ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার করা উচিত। ঘামাচি বা র্যাশের সমস্যা থাকলে বাজারচলতি কুলিং পাউডার ছেড়ে চিকিৎসকের পরামর্শে জিঙ্ক অক্সাইড যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা নিরাপদ। একান্তই পাউডার ব্যবহারের প্রয়োজন হলে ট্যাল্ক-ফ্রি বা কর্নস্টার্চ যুক্ত পাউডার এবং কৃত্রিম ঠান্ডার বিকল্প হিসেবে অ্যালোভেরা বা ক্যালামাইন যুক্ত হালকা জেল ব্যবহার করা ত্বকের সুরক্ষায় অনেক বেশি কার্যকর।