অনন্যার ‘অদ্ভুত’ ভরতনাট্যম, নটরাজের সামনে অভিনেত্রীর কাণ্ড দেখে চটলেন নৃত্যশিল্পীরা

বলিউড অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডেকে নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। অভিনয় বা শারীরিক গঠন নিয়ে ট্রোলিংয়ের পর এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে শাস্ত্রীয় নৃত্যকে আসাম্মান করার গুরুতর অভিযোগ। সম্প্রতি মুক্তিপ্রাপ্ত ‘চাঁদ মেরা দিল’ ছবিতে ভরতনাট্যম নাচের একটি দৃশ্যকে কেন্দ্র করে নেটদুনিয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি। ছবির গল্প সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ালেও অনন্যার এই ‘ফিউশন’ নাচ নিয়ে সমাজমাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দর্শক ও নৃত্যশিল্পীরা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও নেটিজেনদের ক্ষোভ
‘চাঁদ মেরা দিল’ ছবিতে অনন্যার চরিত্রের নাম চাঁদনি। গল্পের একটি দৃশ্যে কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তাঁকে মঞ্চে ভরতনাট্যম নাচতে দেখা যায়। এই দৃশ্যটি নিয়েই আপত্তি তুলেছেন দর্শকরা। নেটিজেনদের মতে, অনন্যার নাচের ভঙ্গি শাস্ত্রীয় নৃত্যের নূন্যতম সৌন্দর্য ও ব্যাকরণ বজায় রাখতে পারেনি। এলোমেলো হাত-পা নেড়ে ‘ফিউশন’ নামের আড়ালে ভরতনাট্যমের মতো একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। এই দৃশ্যের ক্লিপটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই ট্রোলিংয়ের বন্যা বয়ে গিয়েছে। কেউ মন্তব্য করেছেন যে অনন্যা ভরতনাট্যমকে আসাম্মান করছেন, আবার কেউ কটাক্ষ করে লিখেছেন যে ২০২৬-এ এসে অনন্যা এই প্রাচীন নাচের সমাপ্তি ঘটালেন।
ছবির সাফল্য ও সম্ভাব্য প্রভাব
গত ২২ মে মুক্তি পাওয়া এই ছবিটি মূলত কলেজের এক তরুণ-তরুণীর প্রেম, ভুল বোঝাবুঝি এবং অপ্রত্যাশিত গর্ভধারণের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি। ছবির আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বাস্তবধর্মী উপস্থাপনা দর্শকদের ভালো লাগলেও, নাচের এই বিতর্কটি ছবির মূল সাফল্যকে কিছুটা আড়াল করে দিচ্ছে। চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, বলিউডে শাস্ত্রীয় নৃত্যের প্রতি সঠিক প্রশিক্ষণ ও উদাসীনতার অভাবই এই ধরনের ভুলের মূল কারণ। এই ঘটনাটি অনন্যার ক্যারিয়ারের জন্য নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে, কারণ ছবির মূল বার্তা যতই শক্তিশালী হোক না কেন, ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ভুল উপস্থাপন সাধারণ দর্শকের একাংশকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।