ওয়াকফ পোর্টালে পুরো গ্রাম, কেরলে তীব্র ক্ষোভের মুখে কংগ্রেস সরকার!

কেরলে ক্ষমতার পালাবদলের পরপরই নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এর্নাকুলামের মুনামবাম গ্রামের জমি বিতর্ক। কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের নেতৃত্বাধীন নবগঠিত ইউডিএফ সরকারের উদ্যোগে জমিটি ওয়াকফ বোর্ডের ‘উমিদ’ পোর্টালে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে সমগ্র মুনামবাম গ্রামটি এখন ওয়াকফ সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত হওয়ায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ক্যাথলিক চার্চ। এই পদক্ষেপকে রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর বড় আঘাত হিসেবে দেখছে তারা।
বিতর্কের সূত্রপাত ও চার্চের ক্ষোভ
মুনামবাম গ্রামের এই জমিটি ১৯৫০ সালে এক মুসলিম ব্যক্তি একটি কলেজকে দান করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ জমিটি সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করে, যেখানে দলিলের কোথাও ওয়াকফ সম্পত্তির উল্লেখ ছিল না। তবে ২০১৯ সালে কেরল ওয়াকফ বোর্ড আকস্মিকভাবে জমিটিকে নিজেদের সম্পত্তি হিসেবে নথিভুক্ত করলে স্থানীয় ৬১০টি পরিবারের ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। হাইকোর্ট এই পদক্ষেপকে আইনত ত্রুটিপূর্ণ বললেও, পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। বর্তমান সরকারের অধীনে জমিটি পুনরায় ওয়াকফ পোর্টালে আসায় ক্ষুব্ধ চার্চ তাদের মুখপত্রের সম্পাদকীয়তে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী সতীশনকে নিশানা করেছে। চার্চের দাবি, নির্বাচনের আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন এই জমি ওয়াকফের নয় এবং ক্ষমতায় এলে ১০ মিনিটে সমস্যার সমাধান করবেন; কিন্তু এখন ধর্মের কারণে ন্যায়বিচার বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও সরকারের অবস্থান
ওয়াকফ বোর্ডের এই পদক্ষেপের ফলে কেরলের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র মেরুকরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চার্চের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ওয়াকফ আইন সংশোধনীও মুনামবামের সাধারণ বাসিন্দাদের কোনো সুরক্ষা দিতে পারেনি, বরং বোর্ডকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী সতীশন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, কোনো বাসিন্দাকে উচ্ছেদ করা হবে না এবং সাধারণ মানুষ তাদের জমি ফিরে পাবেন। একই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে আইনি লড়াইয়েরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, ওয়াকফ বোর্ড তাদের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেছে, সম্পূর্ণ আইন মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।