শান্তিনিকেতনে এইমসের ধাঁচে মেডিক্যাল কলেজ, বীরভূমের স্বাস্থ্যচিত্রে বড় বদলের ইঙ্গিত

বোলপুর ও শান্তিনিকেতন সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিনের বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই পর্যটন ও শিক্ষা কেন্দ্রে উন্নত চিকিৎসার অভাব এতটাই প্রকট যে, অতীতে খোদ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও চিকিৎসার জন্য শান্তিনিকেতন ছাড়তে হয়েছিল। এবার সেই খামতি পূরণ করতে এবং বীরভূম জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার খোলনলচে বদলে দিতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস বা এইমসের আদলে শান্তিনিকেতনে একটি আধুনিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তা শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করবে।
ঐতিহাসিক আক্ষেপ দূর করার প্রয়াস
শান্তিনিকেতনে উন্নত মানের চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় অতীতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তাঁর পুত্র রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর মতো ব্যক্তিত্বদের শেষ জীবনে এখান থেকে চলে যেতে হয়েছিল। এমনকি সাম্প্রতিক কোভিড মহামারির সময়েও স্থানীয় প্রবীণ আশ্রমিকদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্তমানে বিশ্বভারতীর নিজস্ব পিয়ারর্সন মেমোরিয়াল হাসপাতাল এবং দীনবন্ধু অ্যান্ড্রুজ মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামে দুটি চিকিৎসা কেন্দ্র থাকলেও, তা আধুনিক ও বড় আকারের চিকিৎসা চাহিদা মেটাতে অপর্যাপ্ত। নতুন পরিকল্পনায় এই দুটি হাসপাতালকেও প্রস্তাবিত ‘বিশ্বভারতী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল’-এর সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবা হয়েছে। বিশ্বভারতীর উপাচার্যের বিশেষ উদ্যোগে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে এক ছাদের তলায় আনার এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উন্নয়নের জোয়ার ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বীরভূম তথা সংলগ্ন জেলাগুলির সাধারণ মানুষ ঘরের কাছেই অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য আর কলকাতা বা অন্য রাজ্যে দৌড়াতে হবে না। একই সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পড়ুয়াদের জন্য তৈরি হবে উন্নত মানের পঠন-পাঠন ও গবেষণার সুযোগ, যা সামগ্রিকভাবে শান্তিনিকেতনের গরিমা আরও বাড়িয়ে দেবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের চূড়ান্ত রূপায়ণ এখন সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে জাতীয় মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি), কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের আনুষ্ঠানিক অনুমতি এবং রাজ্য সরকারের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ও সহযোগিতার ওপর। অনুমোদন মিললেই শান্তিনিকেতনের বুকে চিকিৎসা বিপ্লবের এই নতুন অধ্যায়টি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।