বাংলায় কেমন চলছে প্রথম হোল্ডিং সেন্টার?

বাংলায় কেমন চলছে প্রথম হোল্ডিং সেন্টার?

আসামের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়ে গেল হোল্ডিং সেন্টার বা ডিটেনশন ক্যাম্প। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য এই বিশেষ শিবির তৈরি করা হয়েছে। সোমবার প্রথমদিনই রাজ্যের তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে ১৮ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে রাখা হয়। তবে এই কেন্দ্রগুলোর নাম শুনলেই জনমনে যে জেলের মতো ভয় বা যন্ত্রণার ছবি ভেসে ওঠে, বাস্তব পরিস্থিতি এবং আইনি পরিকাঠামো তার চেয়ে অনেকটাই আলাদা।

কী এই হোল্ডিং সেন্টার এবং এর উদ্দেশ্য

সহজ কথায়, হোল্ডিং সেন্টার হলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জন্য তৈরি একটি অস্থায়ী আটক শিবির। ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব নেই কিংবা যাদের নাগরিকত্ব নিয়ে আইনি বিতর্ক রয়েছে, তাদের নিজ দেশে প্রত্যর্পণের (ডিপোর্ট) পূর্ববর্তী সময়টুকু এখানে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিবেশী রাষ্ট্র থেকে আসা ব্যক্তি, যাদের কাছে ভারতে থাকার সঠিক নথি নেই, তাদের এখানে সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা যাবে। এই সময়ের মধ্যে জেলাশাসক বা সমমানের আধিকারিকরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নথিপত্র ও নাগরিকত্ব যাচাই করবেন। অনুপ্রবেশকারী হিসেবে প্রমাণিত হলে তাদের কালো তালিকাভুক্ত (ব্ল্যাকলিস্ট) করা হবে এবং বিএসএফের মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

কেমন দেখতে এবং কী ব্যবস্থা রয়েছে

আসামে দেশের প্রথম ডিটেনশন সেন্টারগুলো উঁচু দেওয়াল, ওয়াচ টাওয়ার এবং ডরমেটরির মতো করে তৈরি হলেও, পশ্চিমবঙ্গে আপাতত অব্যবহৃত সরকারি ভবনগুলোকে হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রাজ্যের প্রথম কেন্দ্রটি চালু হয়েছে মালদা জেলার ইংলিশ বাজার শহরের চন্দন পার্ক এলাকায়, যেখানে প্রথম দফায় নয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন মহিলা এবং ছয়জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু রয়েছে।

এই কেন্দ্রগুলো পরিকাঠামোগতভাবে জেলের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন। জেলে যেখানে সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীদের বন্দি রাখা হয়, সেখানে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয় কেবল অবৈধ নাগরিকদের। আসামে তৈরি পাকা ভবনগুলোতে পুরুষ ও মহিলাদের জন্য পৃথক ঘর, শৌচালয়, সাধারণ খাবার ঘর, বিদ্যুৎ ও জলের পর্যাপ্ত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল এবং শিশুদের জন্য স্কুলেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে এই ক্যাম্পের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না।

অর্থায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

এই হোল্ডিং সেন্টার স্থাপন এবং পরিচালনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রাথমিক পরিবহন খরচও রাজ্য সরকারকেই দিতে হচ্ছে। এই ব্যবস্থার ফলে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কড়াকড়ি আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (৩০ দিন) নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং দ্রুত প্রত্যর্পণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের মূল চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *