ফ্রি চিকিৎসার স্বপ্নপূরণের আগে জেনে নিন আয়ুষ্মান কার্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা

রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় গরিব ও আর্থিকভাবে অনগ্রসর পরিবারগুলো বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পাবে। তবে এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের যেমন একাধিক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তেমনই এর কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সব ধরনের রোগ বা চিকিৎসা এই কার্ডের আওতাভুক্ত না হওয়ায়, সঠিক তথ্য না জানলে সাধারণ মানুষকে হাসপাতালে গিয়ে চরম বিভ্রান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।
কোন কোন চিকিৎসার খরচ মিলবে না এই প্রকল্পে
আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের মূল শর্ত হলো, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। ফলে সাধারণ জ্বর, সর্দি, কাশি, মাথাব্যথা বা ছোটখাটো সমস্যার জন্য বহির্বিভাগে (ওপিডি) ডাক্তার দেখালে সেই খরচ এই কার্ডের মাধ্যমে মেটানো যাবে না। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে যদি কেউ ব্লাড টেস্ট, এক্স-রে বা সাধারণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান, তবে সেই টাকাও রোগীকে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে।
চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধের ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। দৈনন্দিন ব্যবহারের সাধারণ ওষুধ, ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, টনিক বা সাপ্লিমেন্টের খরচ এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ছাড়া, রূপচর্চা বা সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য করা প্লাস্টিক সার্জারি ও স্কিন ট্রিটমেন্টের মতো কসমেটিক সার্জারি এই সুবিধার বাইরে রাখা হয়েছে। দাঁতের সাধারণ চিকিৎসা, দাঁত পরিষ্কার করা এবং টেস্ট টিউব বেবি বা আইভিএফ (IVF) চিকিৎসার খরচও আয়ুষ্মান কার্ডে পাওয়া যায় না।
প্রকল্পের আওতাধীন হাসপাতাল ও যোগ্যতার মাপকাঠি
এই কার্ড থাকলেই যে কোনো হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা মিলবে, এমনটা নয়। শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত তালিকাভুক্ত (এমপ্যানেলড) সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালেই এই কার্ড কার্যকর হবে। অনেক ক্ষেত্রে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রাইভেট কেবিন, বিশেষ ওষুধ বা অতিরিক্ত পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাড়তি টাকা দাবি করতে পারে, যা রোগীকে নিজেকেই বহন করতে হবে।
তা ছাড়া, সমাজের সব স্তরের মানুষ এই সুবিধা পাবেন না। সরকারি চাকরিজীবী, আয়করদাতা, প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) সুবিধাভোগী কর্মী অথবা ইএসআইসি (ESIC) কার্ডধারীরা এই প্রকল্পের আওতা থেকে সম্পূর্ণ বাদ পড়েছেন। ফলে নতুন এই স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করতে হলে কোন কোন হাসপাতালে এই কার্ড গ্রাহ্য হচ্ছে এবং কোন কোন পরিষেবা এর আওতাভুক্ত, তা চিকিৎসা শুরু করার আগেই ভালো করে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।