কর্নাটকের কুরসিতে এবার কি শিবকুমার, শেষ পর্যন্ত ইস্তফা দিতে রাজি সিদ্দারামাইয়া

কর্নাটক কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন ও ক্ষমতার লড়াই অবশেষে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছে। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের বুধ বা বৃহস্পতিবারই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রভাবশালী নেতা ডি কে শিবকুমার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের ম্যারাথন বৈঠকের পর দক্ষিণ ভারতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যের নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনায় সিলমোহর পড়তে চলেছে।
দিল্লির দরবারে রফাসূত্র ও প্রিয়াঙ্কার ভূমিকা
কেরলে কংগ্রেসের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের আবহে কর্নাটকের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল কাটাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে এআইসিসি (AICC)। মঙ্গলবার দিল্লিতে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে ও কে সি বেণুগোপালদের উপস্থিতিতে দুই যুযুধান গোষ্ঠীর নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক হয়। এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর ক্ষমতা ভাগাভাগির যে সূত্র তৈরি হয়েছিল, শিবকুমারের অনুগামীরা দীর্ঘদিন ধরেই তা কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও ২০২৮ সালের পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে শিবকুমারের পক্ষে সওয়াল করেন, যাতে নতুন নেতৃত্বের বিষয়ে জনমানসে কোনো সংশয় না থাকে। সোনিয়া গান্ধীর সবুজ সংকেত মেলার পর হাইকম্যান্ডের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছেন সিদ্দারামাইয়া।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও সিদ্দারামাইয়ার পুনর্বাসন
নেতৃত্ব পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি যাতে মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য বর্ষীয়ান দলিত নেতা সিদ্দারামাইয়াকে জাতীয় রাজনীতিতে একাধিক আকর্ষণীয় প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ পদ দেওয়ার পাশাপাশি সর্বভারতীয় স্তরে বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তবে দিল্লির রাজনীতিতে তিনি যোগ দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট করেননি। এই পরিবর্তনের ফলে কর্নাটক কংগ্রেসে শিবকুমার গোষ্ঠীর আধিপত্য যেমন প্রতিষ্ঠিত হবে, তেমনি ২০২৮ সালের নির্বাচনের আগে দলে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। তবে লোকসভা নির্বাচনের পর দাক্ষিণাত্যের এই গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে সরকারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন কংগ্রেসের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ।