বঙ্গভবনের পর বিধানসভা, ফের শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঋতব্রতর, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

বঙ্গভবনের পর বিধানসভা, ফের শুভেন্দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঋতব্রতর, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা!

দিল্লির বঙ্গভবনের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। আবারও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা মিলল তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কয়েক দিনের ব্যবধানে এই দুই নেতার পরপর সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন ও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এটি নিছকই কাকতালীয় নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

স্পিকারের ঘরে দুই শিবিরের সৌজন্য বিনিময়

মঙ্গলবার বিধানসভার নতুন স্পিকার রথীন্দ্র বোসের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তাপস রায়, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় ও শংকর ঘোষ। ঠিক সেই সময়েই স্পিকারের ঘরের সামনে হাজির হন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। তাঁরা নিজে থেকেই সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। স্পিকারের পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গেও তাঁদের বেশ কিছুক্ষণ কথা ও সৌজন্য বিনিময় হয়।

রাজনৈতিক জল্পনা বনাম সৌজন্যের রাজনীতি

বিধানসভার অন্দরে এই ঘটনা জানাজানি হতেই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা তৈরি হয়। তবে এই জল্পনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এটি সম্পূর্ণ একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়। বিরোধী দল হিসেবে গঠনমূলক বিরোধিতা বজায় রাখার পাশাপাশি এই ধরনের সৌজন্য বজায় থাকবে বলেই তিনি জানান। একই সুর শোনা গেছে বিধায়ক সন্দীপন সাহার গলাতেও। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তাপস রায় এই পরিবেশকে স্বাগত জানিয়ে একে বর্তমান সরকারের সম্পদ বলে উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ ইঙ্গিত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে যে চরম তিক্ততা দেখা যেত, এই ধরনের ধারাবাহিক সৌজন্য সাক্ষাৎ তার বরফ গলার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে পরপর দু’বার দিল্লির বঙ্গভবন ও কলকাতার বিধানসভায় শুভেন্দু-ঋতব্রত সাক্ষাৎকে শুধুমাত্র ‘কাকতালীয়’ হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এই সৌজন্যের রাজনীতি আগামী দিনে বিধানসভার কার্য পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে নাকি পর্দার আড়ালে নতুন কোনও রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি করবে, সেটাই এখন দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *