‘ডিটেনশন’ আতঙ্ক! ‘থ্রি-ডি’ ফর্মুলা চালু হতেই বাংলাদেশে ফেরার ঢল অনুপ্রবেশকারীদের

রাজ্যে ‘ডিটেকশন, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’—এই ‘থ্রি-ডি’ (3D) ফর্মুলার ভিত্তিতে ‘ডিটেনশন ক্যাম্প’ বা ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালু হওয়া মাত্রই অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করে থাকা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা এবার শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে দলে দলে সীমান্ত পেরিয়ে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার পথ খুঁজছে। উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে বিগত দু’দিনে কাতারে কাতারে বাংলাদেশি ভিড় জমিয়েছেন। সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (BSF) কাছে তাঁদের স্পষ্ট আরজি—তাঁরা বাংলাদেশি, কোনো বৈধ নথি ছাড়া এ দেশে ঢুকেছিলেন এবং এখন তাঁরা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে চান।
সীমান্তে কড়া নজরদারি ও অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার
হাকিমপুর সীমান্তের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মালদহ, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও জলপাইগুড়ির বিভিন্ন উন্মুক্ত সীমান্ত পথ দিয়ে রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশে পালানোর চেষ্টা করছে অনুপ্রবেশকারীরা। এই খবর সামনে আসতেই বিএসএফ সীমান্তে বাড়তি নজরদারি ও পাহারা শুরু করেছে। এই কড়াকড়ির মধ্যেই বিগত ২৪ ঘণ্টায় মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, ভগবানগোলা এবং লালগোলা এলাকা থেকে মোট ১৩ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে পাকড়াও করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেককেই লালগোলার ‘পদ্মাভবন’ হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে, যার ফলে সেখানে বর্তমানে বন্দি অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮। এ ছাড়া দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থেকেও দীর্ঘ দিন ধরে ভারতীয় সেজে থাকা এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
“পালাও, তাড়াতাড়ি পালাও!”—মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি
কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সীমান্তে বাংলাদেশিদের ভিড় জমানোর প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুপ্রবেশকারীদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “পালাও, তাড়াতাড়ি পালাও! আমরা সাফ বলে দিয়েছি, বাংলাদেশের অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কোর্টে পাঠানোর কোনো দরকার নেই, আইনেও তা নেই। পুলিশ সরাসরি ধরবে, বিএসএফকে হস্তান্তর করবে এবং বাংলাদেশি প্রমাণ করে ডিপোর্ট করবে।” এ রাজ্যের জেলে অনুপ্রবেশকারীদের রেখে সরকারি অর্থ খরচ করার বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট জানান, ‘ডিটেক্ট, ডিলিট এবং ডিপোর্ট’ আইনটি দেশের স্বার্থে বর্তমান সরকার অত্যন্ত কঠোরভাবে কার্যকর করছে।
বৈধ নথিহীন বাংলাদেশিদের স্বীকারোক্তি
হাকিমপুর সীমান্তে জড়ো হওয়া অনুপ্রবেশকারীদের অনেকেই কলকাতা ও লাগোয়া মেটিয়াবুরুজ, সন্তোষপুর, সোনারপুর, দমদম, বিধাননগর এবং বেলঘড়িয়ার মতো এলাকায় রাজমিস্ত্রি বা অন্য নানা শ্রমিকের কাজ করছিলেন। সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা বা ময়মনসিংহের বাসিন্দা এই অনুপ্রবেশকারীরা নিজের মুখে স্বীকার করেছেন যে, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনিক কড়াকড়ি চরম আকার ধারণ করেছে। কোনো বৈধ নথিপত্র না থাকায় আইনি জাঁতাকল ও ডিটেনশন ক্যাম্পের এড়াতে তাঁরা স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এক ঝলকে
- রাজ্যে ‘থ্রি-ডি’ ফর্মুলায় হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই বাংলাদেশিদের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফেরার হিড়িক পড়েছে।
- স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে কয়েকশো অবৈধ অনুপ্রবেশকারী জড়ো হয়ে বিএসএফ-এর কাছে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
- মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণ দিনাজপুর সীমান্ত থেকে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ জন অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেপ্তার করে হোল্ডিং সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
- “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি ধরে বিএসএফ-এর মাধ্যমে ডিপোর্ট করা হবে”—কল্যাণীতে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।