অনুপ্রবেশ রুখতে মোদী সরকারের মেগা পদক্ষেপ, জনবিন্যাসের ভারসাম্য রক্ষায় গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের বিশেষ কমিটি

দেশজুড়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে যেভাবে অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তাকে দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। এই বিপজ্জনক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার সংকট মোকাবিলা করতেই অবশেষে গঠন করা হলো ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’ বা জনসংখ্যা পরিবর্তন বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের কমিটি। ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই কমিটি গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন, যা এবার চূড়ান্ত রূপ পেল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বিশেষ কমিটি গঠনের কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছেন।
কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বরা
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল কমিটির চেয়ারম্যান বা সভাপতি পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বেই আগামী দিনে এই কমিটি কাজ করবে। বিচারপতি নাভলেকরের পাশাপাশি দেশের শীর্ষস্তরের বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ আমলা এবং বিশেষজ্ঞকেও এই কমিটির সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই বিশেষ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দেশের বর্তমান জনগণনা কমিশনার। এছাড়াও সদস্য হিসেবে থাকছেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস আধিকারিক বালাজি শ্রীবাস্তব এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা বিশেষজ্ঞ ডক্টর শমিকা রবি। সমগ্র প্রক্রিয়াটি সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিদেশি অনুবিভাগের (ফরেনার্স-১) যৌথ সচিব এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক স্তরে জনসংখ্যা পরিবর্তনের যে অস্বাভাবিক ধারা ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা দেশের সামগ্রিক সার্বভৌমত্বের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা এবং বহু বছরের চেনা সামাজিক কাঠামোয় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া আদিবাসী বা জনজাতীয় সমাজের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে এটি এক গভীর ও জটিল সমস্যা তৈরি করছে।
এই বিশেষ কমিটি মূলত ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে তৈরি হওয়া মারাত্মক জনসংখ্যাগত ভারসাম্যের অভাব খতিয়ে দেখবে এবং এর একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ মূল্যায়ন করবে। দেশের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রেখে এই অনুপ্রবেশ ও সামাজিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার বিষয়টির একটি সুপরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্থায়ী সমাধান সূত্র খুঁজে বের করাই হবে এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। এই কমিটি গঠনের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং জনবিন্যাস রক্ষার লড়াইয়ে এক নতুন প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হলো।