পদ খোয়াতেই কি আরও কোণঠাসা পিনারাই বিজয়ন! ভোররাত থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডির ম্যারাথন তল্লাশি

মুখ্যমন্ত্রীর পদ খোয়াতেই এবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আতশকাচের নিচে কেরলের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন। আজ, বুধবার সাতসকাল থেকেই তাঁর বাসভবনসহ কেরলের মোট ১০টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কোচি মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) সংক্রান্ত একটি হাই-প্রোফাইল দুর্নীতি ও আর্থিক তছরুপের মামলায় এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তদন্তের নেপথ্যে কোটি টাকার লেনদেন বিতর্ক
এই আর্থিক কেলেঙ্কারির মূল শিকড় জড়িয়ে রয়েছে বিজয়ন-কন্যা টি বীণার মালিকানাধীন সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশন’-এর সঙ্গে। অভিযোগ, ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে সিন্থেটিক রুটাইল ও শিল্প রাসায়নিক প্রস্তুতকারী সংস্থা সিএমআরএল-এর কাছ থেকে ১.৭২ কোটি টাকা পেয়েছিল বীণার সংস্থা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বিপুল অঙ্কের টাকা নেওয়ার বিনিময়ে কোনো রকম ব্যবস্থাপনামূলক বা প্রযুক্তিগত পরিষেবা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই এই লেনদেন নিয়ে ঘুষ ও বেআইনি আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠছিল। গতকালই কেরল হাইকোর্ট এই মামলায় ইডির তদন্তপ্রক্রিয়া বাতিল করার আবেদন খারিজ করে দেয়, যার পরপরই কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রভাব
যদিও এই দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের নাম সরাসরি যুক্ত ছিল না, তবুও ভোটের আগে থেকেই এই বিষয়টি তাঁকে ও তাঁর দলকে চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে ফেলেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা থেকে সরার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই এই ইডি হানা পিনারাই বিজয়নের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক বড় ধাক্কা। এই ঘটনা কেরলের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। একদিকে যেমন বিরোধীরা একে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জোরালো প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরবে, অন্যদিকে তেমনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অনুগামীরা একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হেনস্থা বলে দাবি করতে পারেন। এই তল্লাশির পর ইডি কী ধরনের তথ্য বা প্রমাণ উদ্ধার করে, তার ওপরই নির্ভর করছে কেরলের এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি।