বন্ধের মুখে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী সোনাঝুরি হাট, বুলডোজার নামিয়ে রাস্তা কাটার পর তীব্র জল্পনা

বন্ধের মুখে শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যবাহী সোনাঝুরি হাট, বুলডোজার নামিয়ে রাস্তা কাটার পর তীব্র জল্পনা

ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ তকমা পাওয়া শান্তিনিকেতনের অন্যতম প্রধান পর্যটন আকর্ষণ সোনাঝুরির খোয়াই হাট বন্ধ হওয়া নিয়ে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি সোনাঝুরি জঙ্গল এলাকায় আচমকাই বুলডোজার নামিয়ে মাটি কেটে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে বন দফতর। চারচাকা গাড়ির প্রবেশ রুখতে গভীর পরিখা কাটা হয়েছে এবং জঙ্গলের পরিবেশ নষ্ট করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রিসর্টের বেআইনি বিজ্ঞাপনী সাইনবোর্ডও উপড়ে ফেলা হয়েছে। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় বেআইনি নির্মাণ ভাঙার পর এবার শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিতে বন দফতরের এই কড়া পদক্ষেপ ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পরিবেশ রক্ষা ও আদালতের কড়া অবস্থান

আনুমানিক ২০00 সালে প্রয়াত আশ্রমিক শ্যামলী খাস্তগীরের উদ্যোগে গুটিকয়েক আদিবাসী শিল্পী এবং বিশ্বভারতীর কলাভবনের পড়ুয়াদের হস্তশিল্প নিয়ে সোনাঝুরি জঙ্গলে এই হাটের সূচনা হয়েছিল। শুরুতে সপ্তাহে মাত্র একদিন শনিবার এই হাট বসত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হাটের পরিসর ব্যাপক বৃদ্ধি পায় এবং এটি প্রতিদিন বসতে শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে, হাটের জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মূলত বহিরাগত ব্যবসায়ীরা সেখানে ভিড় জমায় এবং ধীরে ধীরে সোনাঝুরির জঙ্গল গ্রাস করতে শুরু করে রিসর্ট ব্যবসায়ীরা। জঙ্গলের ভেতরে যত্রতত্র চারচাকা গাড়ি ঢুকে পড়া এবং প্লাস্টিক দূষণের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। বন দফতরের জমিতে আইনত এই ধরনের ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত জাতীয় পরিবেশ আদালতে মামলা রুজু করেন। পরিবেশের এই অবক্ষয় রুখতেই শেষ পর্যন্ত বন দফতরকে এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।

অর্থনৈতিক ও পর্যটন ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব

সোনাঝুরি হাটের ওপর বীরভূমের বহু স্থানীয় হস্তশিল্পী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল। জঙ্গল বাঁচাতে রাস্তা কেটে দেওয়ায় এবং হাট বন্ধের জল্পনা তৈরি হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এই প্রান্তিক মানুষেরা। পর্যটকদের যাতায়াত ব্যাহত হলে শান্তিনিকেতনের পর্যটন শিল্পেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে স্থানীয়দের একটি বড় অংশের দাবি, সোনাঝুরি হাটকে কেন্দ্র করে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া গড়ে উঠেছিল, যা পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্যকে কালিমালিপ্ত করছিল। বন দফতরের এই অভিযানের ফলে সাময়িকভাবে পর্যটন ও স্থানীয় ব্যবসা ধাক্কা খেলেও, দীর্ঘমেয়াদে শান্তিনিকেতনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা পাবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদেরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *